জাককানইবিতে দিনব্যাপী আদিবাসী উৎসব : নাচ-গান ও ঐতিহ্যবাহী খেলায় মাতলেন শিক্ষার্থীরা

- প্রকাশের সময় : ০১:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 6

নাচ, গান, গল্প, আবৃত্তি ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) উদযাপিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘আদিবাসী উৎসব’। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ উৎসব চলে রাত ১১টা পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ১৭তম আবর্তনের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা তাঁদের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোর্সের অংশ হিসেবে এ উৎসবের আয়োজন করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টায় গারোদের ঐতিহ্যবাহী জুম নাচ এবং আদিবাসী গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। পরে সকাল ১১টায় আদিবাসী শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ‘বহমান আমারও পদচিহ্ন’ শীর্ষক অনুভূতি বিনিময় পর্বে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।
দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলার মধ্য দিয়ে উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত পরিবেশিত হয় মারমা রূপকথার গল্প। আসরের নামাজের বিরতির পর বিকেল সাড়ে ৪টায় শব্দকুঞ্জের পরিবেশনায় আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল ৪টা ৫০ মিনিট থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মাহফুজ ও বিপুন পরিবেশন করেন আদিবাসী গান।
সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে আদিবাসী নৃত্য পরিবেশনের পর ড্রামা চেম্বারের আয়োজনে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘নামের সুতো’। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হয় বোতল নৃত্য। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যান্স ক্লাবের সদস্যরা নৃত্য পরিবেশন করেন। এ ছাড়া ষড়ঙ্গের পরিবেশনা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
উৎসবে অংশ নিয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আদিবাসী শিক্ষার্থীরা। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের চাকমা জনগোষ্ঠীর এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আমি অনেক আনন্দিত। এ আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস সাধারণ শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি অসাম্প্রদায়িক চেতনারও বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।’
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কুমলাউ আরেং বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নিজের সংস্কৃতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং তাদের সংস্কৃতি সমতলের মানুষের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে আমাদের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।’
একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া চিরাং বলেন, ‘এমন একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। এর মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতি সবার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যে তুলে ধরা যাচ্ছে। আদিবাসীদেরও যে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস রয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।’
আয়োজকদের এমন উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা তুলে ধরার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
























