মধুখালীতে কলেজের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল, টানা তিন বছর শূন্য ফল, শিক্ষকদের শোকজ

- প্রকাশের সময় : ০৬:০০:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 7

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯ জন শিক্ষক থাকলেও ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। শুধু চলতি বছরই নয়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। টানা তিন বছর শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করায় প্রতিষ্ঠানটি শূন্য ফলাফলের হ্যাটট্রিক করেছে।
এদিকে উপজেলার আড়পাড়া কাজী সিরাজুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকেও চলতি বছর মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেননি। দুটি প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলে এলাকায় অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন এবং আড়পাড়া কাজী সিরাজুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে বুকভরা আশা নিয়ে সন্তানদের কলেজে পাঠাই। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এটি খুবই দুঃখজনক।’
মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মৃধা বলেন, কলেজ শাখায় ৯ জন শিক্ষক যোগদান করলেও দুজন আর আসেন না। মূল সমস্যা হচ্ছে, ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। তবে স্কুল শাখার পরীক্ষার ফলাফল খুব ভালো।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ. আউয়াল আকন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ফলাফল জানার পর গত ৩ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, কলেজ শাখায় ৯ জন শিক্ষকের মধ্যে দুজন চাকরি নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বাকি সাতজন কোনো ক্লাস নেন না। এ ঘটনায় গত ৪ নভেম্বর শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জবাব পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। টানা তিন বছর শূন্য ফলাফলের কারণে কলেজ শাখাটি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে























