বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ফারজানা আফরোজ, স্ত্রী পরিচয় অস্বীকার রনির শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে পলাতক আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন পুলিশ পরিদর্শক থেকে এএসপি হলেন ৬৭ কর্মকর্তা ‘আমাকে সরাতে এলে তোমরাই ধ্বংস হবে’, ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল আগামী বছর দুই ঈদে ১১ দিন ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার জন্য ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মধুখালীতে কলেজের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল, টানা তিন বছর শূন্য ফল, শিক্ষকদের শোকজ বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারিসহ নানা বিতর্কিত কাণ্ডে ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা

‘আমাকে সরাতে এলে তোমরাই ধ্বংস হবে’, ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 4

 

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পরও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যদি ডেমোক্র্যাটরা তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে এই পদক্ষেপ তাদের দলকেই পুরোপুরি ধূলিসাৎ ও ধ্বংস করে দেবে। একই সঙ্গে মার্কিন ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে সফল সময় পার করছেন দাবি করে নিজের বিরুদ্ধে আসা অভিশংসনের সমস্ত শঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এবং সিনেট—মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই হাতছাড়া করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। এই বিশাল বিপর্যয় ট্রাম্পের মেয়াদের শেষাংশকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। এর ফলে ডেমোক্র্যাটদের হাতে এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিশংসন করার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি পেন্টাগনে সাম্প্রতিক রদবদল থেকে শুরু করে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে বিস্তৃত তদন্তের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

ইতিহাসে এ পর্যন্ত তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দুবার করে অভিশংসন করা হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এটি তৃতীয়বারের মতো ঘটার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের এমন উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, একেবারেই কোনো শঙ্কা নেই। আমার বিশ্বাস, তারা যদি এই পদক্ষেপ নেয়, তবে তা ডেমোক্র্যাট পার্টিকেই ধ্বংস করে দেবে। অহেতুক কিসের অভিশংসন? একটি সফল দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য? আমাদের দেশ এখন তার পুরো ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সফল।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অতিরিক্ত ৭টি আসনে জয়লাভ করে মোট ৫৪টি আসন নিশ্চিত করেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি আসনের চেয়েও বেশি। আলাস্কা এবং মিসিসিপির ফল এখনো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে ২৫টি অতিরিক্ত আসন জিতে ডেমোক্র্যাটরা ২৪০টি আসন দখল করেছে, যেখানে সরকার বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছিল ২১৮টি। ঐতিহাসিক এই হারের পর ট্রাম্পের অভিশংসনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রেডিকশন মার্কেট ‘কালশি’-র পূর্বাভাসে দেখা গেছে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের চরম হারের পর ট্রাম্পের অভিশংসিত হওয়ার সম্ভাবনা ৬.৬ শতাংশ বেড়ে এখন ৭৬.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

রিপাবলিকানদের জ্যেষ্ঠ নেতারাও ইতিমধ্যেই এই আশঙ্কার কথা স্বীকার করছেন। লুইজিয়ানার প্রতিনিধি ও হাউসের প্রভাবশালী নেতা স্টিভ স্ক্যালিস এবং টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ সাফ জানিয়েছেন, নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসিত করার সব রকম চেষ্টা চালাবে। অপরদিকে প্রতিনিধি পরিষদের দায়িত্ব নিতে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্ক স্পিকার হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, তাদের দল অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা বা না করার বিষয়ে সব সম্ভাবনাই খোলা রেখেছে, তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বাতিল বা নিশ্চিত করছেন না।

তবে অভিশংসন ছাড়াও ট্রাম্পের প্রতিরক্ষাবিষয়ক নীতির কঠোর সমালোচনায় নেমেছেন ডেমোক্র্যাটরা। স্পিকার হাকিম জেফরিস স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতিনিধি পরিষদে তাদের প্রথম কাজগুলোর একটি হবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদচ্যুত করা। ডেমোক্র্যাটদের চাপের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ সামলানোর ক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় পিট হেগসেথকে সরিয়ে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসকে ওই পদে বসানোর চিন্তা করছেন ট্রাম্প। এই মুহূর্তে হেগসেথকে তার পদে রাখা উচিত হবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন ও বন্ধুদের মতামত নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রবীণ প্রতিনিধি জেমি রাসকিন উল্লেখ করেছেন, অভিশংসন মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটদের কাছে থাকা অনেকগুলো কার্যকর অস্ত্রের একটি মাত্র।

আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি, ঘুষ কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহিতায় লিপ্ত হলে কংগ্রেস তাকে অপসারণে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালাতে পারে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার অভিশংসিত হন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, যখন ন্যান্সি পেলোসির নেতৃত্বে প্রতিনিধি পরিষদ তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনে। অভিযোগে বলা হয়, ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীকে কোণঠাসা করতে ইউক্রেনকে দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি ডলারের সাময়িক সামরিক সাহায্য আটকে রেখে নির্বাচনী হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটে ভোটের মাধ্যমে ট্রাম্পকে উভয় অভিযোগ থেকেই খালাস দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডব ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে একই বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসিত করা হয় এবং ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিনেট তাকে পুনরায় বেকসুর খালাস দেয়। মার্কিন ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় অভিশংসিত করে চূড়ান্তভাবে পদচ্যুত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নির্বাচনের এই লজ্জাজনক পরাজয় ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই নজিরবিহীন ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পেছনে ইরানের যুদ্ধকেই একমাত্র কারণ হিসেবে দায়ী করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ভ্যান্স খোলামেলাভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, এই যুদ্ধের মূল্য হিসেবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো মোটেও যুক্তিসংগত ছিল না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের দূরত্বে রেখে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে নজর দিয়ে ভ্যান্স বলেন, আমাদের হারের একমাত্র কারণ এই যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজে কাল রাতে এই সত্যি স্বীকার করেছেন। যদি কেউ দাবি করতে চান যে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেট হারিয়ে ফেলা এই যুদ্ধের তুলনায় কিছুই নয়, তবে তিনি সেটা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করুন। আমরা একমত হই বা না হই, অন্তত সত্যিটা স্বীকার করা উচিত।

তবে ভাইস প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুমের নির্মাণকাজ পরিদর্শনের সময় ভ্যান্সের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শক্ত কণ্ঠে জবাব দেন যে, সেই সিদ্ধান্ত এবং যুদ্ধ শতভাগ সঠিক ও উপযুক্ত মূল্যেই নেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘আমাকে সরাতে এলে তোমরাই ধ্বংস হবে’, ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের সময় : ০৭:২৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

 

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পরও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যদি ডেমোক্র্যাটরা তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে এই পদক্ষেপ তাদের দলকেই পুরোপুরি ধূলিসাৎ ও ধ্বংস করে দেবে। একই সঙ্গে মার্কিন ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে সফল সময় পার করছেন দাবি করে নিজের বিরুদ্ধে আসা অভিশংসনের সমস্ত শঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এবং সিনেট—মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই হাতছাড়া করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। এই বিশাল বিপর্যয় ট্রাম্পের মেয়াদের শেষাংশকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। এর ফলে ডেমোক্র্যাটদের হাতে এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিশংসন করার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি পেন্টাগনে সাম্প্রতিক রদবদল থেকে শুরু করে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে বিস্তৃত তদন্তের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

ইতিহাসে এ পর্যন্ত তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দুবার করে অভিশংসন করা হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এটি তৃতীয়বারের মতো ঘটার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের এমন উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, একেবারেই কোনো শঙ্কা নেই। আমার বিশ্বাস, তারা যদি এই পদক্ষেপ নেয়, তবে তা ডেমোক্র্যাট পার্টিকেই ধ্বংস করে দেবে। অহেতুক কিসের অভিশংসন? একটি সফল দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য? আমাদের দেশ এখন তার পুরো ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সফল।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অতিরিক্ত ৭টি আসনে জয়লাভ করে মোট ৫৪টি আসন নিশ্চিত করেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি আসনের চেয়েও বেশি। আলাস্কা এবং মিসিসিপির ফল এখনো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে ২৫টি অতিরিক্ত আসন জিতে ডেমোক্র্যাটরা ২৪০টি আসন দখল করেছে, যেখানে সরকার বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছিল ২১৮টি। ঐতিহাসিক এই হারের পর ট্রাম্পের অভিশংসনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রেডিকশন মার্কেট ‘কালশি’-র পূর্বাভাসে দেখা গেছে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের চরম হারের পর ট্রাম্পের অভিশংসিত হওয়ার সম্ভাবনা ৬.৬ শতাংশ বেড়ে এখন ৭৬.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

রিপাবলিকানদের জ্যেষ্ঠ নেতারাও ইতিমধ্যেই এই আশঙ্কার কথা স্বীকার করছেন। লুইজিয়ানার প্রতিনিধি ও হাউসের প্রভাবশালী নেতা স্টিভ স্ক্যালিস এবং টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ সাফ জানিয়েছেন, নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসিত করার সব রকম চেষ্টা চালাবে। অপরদিকে প্রতিনিধি পরিষদের দায়িত্ব নিতে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্ক স্পিকার হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, তাদের দল অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা বা না করার বিষয়ে সব সম্ভাবনাই খোলা রেখেছে, তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বাতিল বা নিশ্চিত করছেন না।

তবে অভিশংসন ছাড়াও ট্রাম্পের প্রতিরক্ষাবিষয়ক নীতির কঠোর সমালোচনায় নেমেছেন ডেমোক্র্যাটরা। স্পিকার হাকিম জেফরিস স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতিনিধি পরিষদে তাদের প্রথম কাজগুলোর একটি হবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদচ্যুত করা। ডেমোক্র্যাটদের চাপের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ সামলানোর ক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় পিট হেগসেথকে সরিয়ে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসকে ওই পদে বসানোর চিন্তা করছেন ট্রাম্প। এই মুহূর্তে হেগসেথকে তার পদে রাখা উচিত হবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন ও বন্ধুদের মতামত নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রবীণ প্রতিনিধি জেমি রাসকিন উল্লেখ করেছেন, অভিশংসন মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটদের কাছে থাকা অনেকগুলো কার্যকর অস্ত্রের একটি মাত্র।

আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি, ঘুষ কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহিতায় লিপ্ত হলে কংগ্রেস তাকে অপসারণে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালাতে পারে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার অভিশংসিত হন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, যখন ন্যান্সি পেলোসির নেতৃত্বে প্রতিনিধি পরিষদ তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনে। অভিযোগে বলা হয়, ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীকে কোণঠাসা করতে ইউক্রেনকে দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি ডলারের সাময়িক সামরিক সাহায্য আটকে রেখে নির্বাচনী হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটে ভোটের মাধ্যমে ট্রাম্পকে উভয় অভিযোগ থেকেই খালাস দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডব ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে একই বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসিত করা হয় এবং ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিনেট তাকে পুনরায় বেকসুর খালাস দেয়। মার্কিন ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় অভিশংসিত করে চূড়ান্তভাবে পদচ্যুত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নির্বাচনের এই লজ্জাজনক পরাজয় ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই নজিরবিহীন ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পেছনে ইরানের যুদ্ধকেই একমাত্র কারণ হিসেবে দায়ী করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ভ্যান্স খোলামেলাভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, এই যুদ্ধের মূল্য হিসেবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো মোটেও যুক্তিসংগত ছিল না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের দূরত্বে রেখে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে নজর দিয়ে ভ্যান্স বলেন, আমাদের হারের একমাত্র কারণ এই যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজে কাল রাতে এই সত্যি স্বীকার করেছেন। যদি কেউ দাবি করতে চান যে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেট হারিয়ে ফেলা এই যুদ্ধের তুলনায় কিছুই নয়, তবে তিনি সেটা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করুন। আমরা একমত হই বা না হই, অন্তত সত্যিটা স্বীকার করা উচিত।

তবে ভাইস প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুমের নির্মাণকাজ পরিদর্শনের সময় ভ্যান্সের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শক্ত কণ্ঠে জবাব দেন যে, সেই সিদ্ধান্ত এবং যুদ্ধ শতভাগ সঠিক ও উপযুক্ত মূল্যেই নেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ