মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot

মাঠেই গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষ, হাসপাতালে না ফেরার দেশে স্প্যানিশ ফুটবলার মিগুয়েল

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 10
স্প্যানিশ ফুটবলার জেসুস দে মিগুয়েল

স্পেনের ঘরোয়া ফুটবলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। খেলার মাঠে প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ শারীরিক সংঘর্ষের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্প্যানিশ ফুটবলার জেসুস দে মিগুয়েল আলমাদা। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই এই প্রতিভাবান স্ট্রাইকারের অকাল প্রস্থানে বিশ্ব ফুটবলেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

মাঠে মর্মান্তিক সংঘর্ষ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

ঘটনাটি ঘটে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে অ্যান্ডোরা ও তেনেরিফের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে। খেলার নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সময়ের ৭ মিনিটে যখন দুই দলই ২–২ গোলে সমতায় ছিল, ঠিক তখনই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি দূরপাল্লার পাস নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য অ্যান্ডোরার ডি-বক্সের দিকে দ্রুত গতিতে ছুটে যাচ্ছিলেন তেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল। পোস্ট ছেড়ে মাঝমাঠের দিকে ছুটে এসে বলের দখল নিতে যান অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক জেসুস ওউনো। এতে গোলরক্ষকের হাঁটু সরাসরি মিগুয়েলের মাথা ও বুকে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করে। ঘটনার আকস্মিকতায় রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই অ্যান্ডোরার গোলরক্ষককে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।

হাসপাতালে স্থানান্তর ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট

সংঘর্ষের পর মাঠেই অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়েন মিগুয়েল। দলের চিকিৎসক ও মাঠের প্যারামেডিকসরা প্রায় পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ম্যাচটি স্থগিত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে তেনেরিফের স্থানীয় নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে ক্যানদেলারিয়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মিগুয়েল কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। সে সময় চিকিৎসকদের নিবিড় প্রচেষ্টায় তাঁর হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের গভীর শোক ও বার্তা

আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিগুয়েলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সিডি তেনেরিফ। এক শোকবার্তায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রিয় ফুটবলার জেসুস দে মিগুয়েল আলমাদা স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এই অপূরণীয় ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শোকস্তব্ধ পরিবার ও ভক্ত-সমর্থকদের প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি দুঃসময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাঠেই গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষ, হাসপাতালে না ফেরার দেশে স্প্যানিশ ফুটবলার মিগুয়েল

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

স্পেনের ঘরোয়া ফুটবলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। খেলার মাঠে প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ শারীরিক সংঘর্ষের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্প্যানিশ ফুটবলার জেসুস দে মিগুয়েল আলমাদা। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই এই প্রতিভাবান স্ট্রাইকারের অকাল প্রস্থানে বিশ্ব ফুটবলেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

মাঠে মর্মান্তিক সংঘর্ষ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

ঘটনাটি ঘটে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে অ্যান্ডোরা ও তেনেরিফের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে। খেলার নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সময়ের ৭ মিনিটে যখন দুই দলই ২–২ গোলে সমতায় ছিল, ঠিক তখনই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি দূরপাল্লার পাস নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য অ্যান্ডোরার ডি-বক্সের দিকে দ্রুত গতিতে ছুটে যাচ্ছিলেন তেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল। পোস্ট ছেড়ে মাঝমাঠের দিকে ছুটে এসে বলের দখল নিতে যান অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক জেসুস ওউনো। এতে গোলরক্ষকের হাঁটু সরাসরি মিগুয়েলের মাথা ও বুকে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করে। ঘটনার আকস্মিকতায় রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই অ্যান্ডোরার গোলরক্ষককে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।

হাসপাতালে স্থানান্তর ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট

সংঘর্ষের পর মাঠেই অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়েন মিগুয়েল। দলের চিকিৎসক ও মাঠের প্যারামেডিকসরা প্রায় পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ম্যাচটি স্থগিত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে তেনেরিফের স্থানীয় নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে ক্যানদেলারিয়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মিগুয়েল কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। সে সময় চিকিৎসকদের নিবিড় প্রচেষ্টায় তাঁর হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের গভীর শোক ও বার্তা

আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিগুয়েলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সিডি তেনেরিফ। এক শোকবার্তায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রিয় ফুটবলার জেসুস দে মিগুয়েল আলমাদা স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এই অপূরণীয় ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শোকস্তব্ধ পরিবার ও ভক্ত-সমর্থকদের প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি দুঃসময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।