তিন নবীনের অভিষেকে সম্পর্কই মূল রসদ

- প্রকাশের সময় : ০৪:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 11

প্রেম থেকে যারা দাম্পত্য জীবনে এসেছেন, অথবা দাম্পত্য জীবনে যারা প্রেম খুঁজছেন—তাদের জন্য উপযোগী হতে পারে এই ওয়েব ফিল্ম। শুরুতেই এটা বলছি; কারণ সম্পর্কে সত্যিকারের প্রেম অন্বেষণ করেন, এমন মানুষেরা এখনও পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি। সম্পর্কে একটু মনোমালিন্য হলেই দূরত্ব, সে থেকে বিচ্ছেদ অব্দি গড়িয়ে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের জীবনে এমন প্রেমও আসে, যারা সম্পর্ককে প্রকৃত অর্ধে শ্রদ্ধা করে, শ্রদ্ধা করে বিপরীত মানুষটিকেও। এমনই প্রেক্ষাপটে সাজানো রোম্যান্টিক-ড্রামা ঘরানার ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে আমব্রেলা’। বানিয়েছেন শিহাব শাহীন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য
প্রেম ঘরানার সিনেমা নির্মাণ করে নাম কামিয়েছেন এই নির্মাতা। ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ দিয়েও হতাশ করেননি। প্লট নিয়ে শুরুতে খুব বেশি আলোচনায় না যাওয়াটাই উচিৎ হবে। তবে একটি ফিল্মের পেছনে নির্মাতাই প্রধান কারিগর; তাই শুরুতে নির্মাতার কাজের মান নিয়ে আলোচনা করাই যায়। রোম্যান্টিক ড্রামা হিসেবে ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ মন্দ নয়। তবে ছবিটির দৈর্ঘ্য কমানো যেতো। গল্পের প্লট ভালো, কিন্তু গল্পের পরিধি ছোট, অথচ দৈর্ঘ্য দুই ঘণ্টারও বেশি। এ কারণে পুরো ছবিটি বেশ ধীরগতির মনে হয়েছে। রোম্যান্টিক ড্রামায় কিছুটা কমেডির ‘সস’ থাকলে উপভোগ্য হয়। নির্মাতা সেদিকটা অচেতনে কিংবা সচেতনে এড়িয়ে গেছেন। যে কারণে শুধু প্রেমের গল্প কারও কারও কাছে একঘেয়ে ঠেকতে পারে। তবে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে কিছু খুচরো রহস্য সেই একঘেয়েমি কাটাতে পারে।
ছবির দৃশ্যায়নে ‘সিনেমাটিক’ আবহের অভাব দেখা গেছে। কালার গ্রেডিং ভালো। বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে সত্যিকারের বিমান ও বিমানবন্দরেই চিত্রায়ণ করা হয়েছে কিছু দৃশ্য। গল্পের প্রয়োজনে কয়েকটি রোম্যান্টিক গান ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো শুনতেও ভালো লেগেছে।
এই ওয়েবফিল্মে বড় চমক এ বছরের তিন লাক্স তারকা—বিদুষী বর্ণীতা, নাযাহ নাওয়ার ও আমিনা ইসলাম। অবশ্যই তারা অভিনয়ে নতুন। নির্মাতাকে খানিকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে যে ওয়েবফিল্মটির কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে নির্মাতা প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখেন।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা
তিন জুটির দাম্পত্য নিয়ে ক্যাফে আমব্রেলার গল্পের বুনন। এতে তৌসিফের সঙ্গে জুটি বাঁধানো হয় বর্ণিতাকে, পার্থের সঙ্গে নাযাহ ও আরেফিন জিলানীর সঙ্গে আমিনা ইসলাম। চোখের দৃষ্টিতে তৌসিফের সঙ্গে বর্ণিতাকে খুব একটা মানানসই না লাগলেও বর্ণিতা তার অভিনয়, আবেগ, এক্সপ্রেশন বেশ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তাছাড়া গল্পের শেষের দিকে বর্ণিতার অভিনয়ের আরো পরিণত রূপ দেখা গেল। বলে রাখা ভালো, ফিল্মে বর্ণিতার চরিত্র একজন অভিনেত্রীর। নবাগত হয়ে অনস্ক্রিনে অভিনেত্রীর চরিত্র করাটা যে তার জন্য চ্যালেঞ্জের ছিল, তা বোঝা গেছে।
অন্যদিকে নাযাহর অভিনয়ও চরিত্র অনুযায়ী ঠিকঠাক। তবে কিছু দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে, তিনি সম্ভবত ‘জোর দিয়ে অভিনয়’ করছেন! এক নেতার মেয়ের চরিত্রে নাযাহ। পুরো ফিল্মে তার অভিনয়ের তাল ওঠা-নামার মধ্যেই ছিল।
তবে আমিনা ইসলাম প্রশংসার দাবি রাখেন। ফিল্মে তার চরিত্রটা একটু জটিল। খোলাসা করলে, নীলা নামের এক সাংসারিক স্ত্রীর চরিত্রে আমিনা। হুমায়ূন আহমেদের সেই নীলুর মতো সংসারকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করে নীলা। হাসি-খুনসুটি, পারিবারিক আবহে তার অভিনয় চরিত্রের সঙ্গে বেশ মানিয়েছে। তবে শুরুর দিকে তার মধ্যেও কিঞ্চিৎ আনাড়ি ভাব লক্ষ্য করা গেছে।





















