Dhaka ০২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভার কাউকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যান্সার প্রতিরোধে যা করণীয়, সরকার সব করবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুর্গাপূজার বার্তা সর্বজনীন, সকল সম্প্রদায়ের: রিজভী আজকের অনুষ্ঠানে না এসে বিরোধী দল শহীদ পরিবারগুলোকে অবজ্ঞা করেছে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ নিতে কোনো বাধা নেই : আইনমন্ত্রী মাতারবাড়ী দিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’কে বঙ্গোপসাগরে যুক্ত করতে চায় টোকিও কয়রায় ৪০ বনজীবী পেলেন নৌকা, জাল ও লাইফ জ্যাকেট চা বাগান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ডে, ২ কোটি টাকার স্কলারশিপ পেলেন শান্তা যাদব

মাতারবাড়ী দিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’কে বঙ্গোপসাগরে যুক্ত করতে চায় টোকিও

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5

আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে সামনে রেখে জাপান একটি বিশেষ শিল্প প্রক্রিয়াকরণ শৃঙ্খল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন চট্টগ্রামের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগ ঘটবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে।

টোকিওভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক প্রতিনিধি দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্প হাবে রূপান্তর করতে পারে এবং এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ট্রানজিট ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩১ সাল পর্যন্ত মাতারবাড়ী ইন্ডাস্ট্রিয়াল, পোর্ট ও বাণিজ্যিক হাবসহ একাধিক প্রকল্পের জন্য জাপানি আর্থিক সহায়তা চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের পরবর্তী প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত হন।

প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এটিই হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজের জন্য বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো, সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

জাপানি কূটনীতিকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মাতারবাড়ী বন্দরটি এমন একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইনের অংশ হবে, যা বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে (সেভেন সিস্টার্স) বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত করবে। এর আগে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের সঙ্গে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সংযোগকারী একই ধরনের একটি সফল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে জাপান।

দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক লিখিত জবাবে জাপানি কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অনুসরণের জন্য একটি সেরা মডেল হতে পারে ব্যাংকক। শহরটি তার বন্দরগুলো এবং ‘সাউদার্ন ইকোনমিক করিডোর’কে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছিল ।

জাপানের এই কর্মকর্তা থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া-ভিয়েতনাম উন্নয়ন করিডোর প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। এটি জাপানের অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনার সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।

জাপানি কূটনীতিকরা এই সংযোগ বা কানেক্টিভিটি প্রকল্পটিকে একটি সফল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন; যা তারা মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে নতুন করে বাস্তবায়ন করতে চান। এর উদ্দেশ্য হলো ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক ও বাণিজ্য সংযোগ আরও জোরদার করা।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরটি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে অর্থায়ন পেয়েছে। প্রকল্পটির বেশিরভাগ কাজই শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে হয়েছিল। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, তখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো থাকায় এ ধরনের যোগাযোগ প্রকল্প তৈরি করা সহজ হয়েছিল।

তখন ফেনী নদীর ওপর ‘মৈত্রী সেতু’ তৈরি করা হয়েছিল, যা ভারতের ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে চট্টগ্রাম এবং মাতারবাড়ী বন্দরের সরাসরি যোগাযোগের পথ খুলে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়, ফলে সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

তা সত্ত্বেও, দীর্ঘমেয়াদে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে জাপানি কর্মকর্তারা যথেষ্ট আশাবাদী। তারা জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে কানেক্টিভিটি বাড়ানো হলে এই বন্দরের উপযোগিতা ও গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। দ্য হিন্দু

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাতারবাড়ী দিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’কে বঙ্গোপসাগরে যুক্ত করতে চায় টোকিও

প্রকাশের সময় : ০১:৫১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে সামনে রেখে জাপান একটি বিশেষ শিল্প প্রক্রিয়াকরণ শৃঙ্খল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন চট্টগ্রামের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগ ঘটবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে।

টোকিওভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক প্রতিনিধি দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্প হাবে রূপান্তর করতে পারে এবং এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ট্রানজিট ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩১ সাল পর্যন্ত মাতারবাড়ী ইন্ডাস্ট্রিয়াল, পোর্ট ও বাণিজ্যিক হাবসহ একাধিক প্রকল্পের জন্য জাপানি আর্থিক সহায়তা চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের পরবর্তী প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত হন।

প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এটিই হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজের জন্য বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো, সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

জাপানি কূটনীতিকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মাতারবাড়ী বন্দরটি এমন একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইনের অংশ হবে, যা বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে (সেভেন সিস্টার্স) বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত করবে। এর আগে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের সঙ্গে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সংযোগকারী একই ধরনের একটি সফল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে জাপান।

দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক লিখিত জবাবে জাপানি কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অনুসরণের জন্য একটি সেরা মডেল হতে পারে ব্যাংকক। শহরটি তার বন্দরগুলো এবং ‘সাউদার্ন ইকোনমিক করিডোর’কে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছিল ।

জাপানের এই কর্মকর্তা থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া-ভিয়েতনাম উন্নয়ন করিডোর প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। এটি জাপানের অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনার সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।

জাপানি কূটনীতিকরা এই সংযোগ বা কানেক্টিভিটি প্রকল্পটিকে একটি সফল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন; যা তারা মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে নতুন করে বাস্তবায়ন করতে চান। এর উদ্দেশ্য হলো ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক ও বাণিজ্য সংযোগ আরও জোরদার করা।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরটি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে অর্থায়ন পেয়েছে। প্রকল্পটির বেশিরভাগ কাজই শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে হয়েছিল। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, তখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো থাকায় এ ধরনের যোগাযোগ প্রকল্প তৈরি করা সহজ হয়েছিল।

তখন ফেনী নদীর ওপর ‘মৈত্রী সেতু’ তৈরি করা হয়েছিল, যা ভারতের ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে চট্টগ্রাম এবং মাতারবাড়ী বন্দরের সরাসরি যোগাযোগের পথ খুলে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়, ফলে সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

তা সত্ত্বেও, দীর্ঘমেয়াদে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে জাপানি কর্মকর্তারা যথেষ্ট আশাবাদী। তারা জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে কানেক্টিভিটি বাড়ানো হলে এই বন্দরের উপযোগিতা ও গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। দ্য হিন্দু