Dhaka ১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। এ চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়বে এটি। ফলে চুক্তিটির মোট মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) কর্মসংস্থানসংক্রান্ত ইএসডিপি-এমওসি (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে চলা আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কর্মসংস্থান সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

চুক্তির বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি জাপানে কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বাড়বে। এর ফলে তাদের উচ্চ বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদে জাপানে বসবাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মন্ত্রী আরও জানান, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশেষ করে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ কারণে কোনো নারী কর্মীকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও চুক্তিতে রাখা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ আরও প্রসারিত হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু

প্রকাশের সময় : ১১:৫২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। এ চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়বে এটি। ফলে চুক্তিটির মোট মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) কর্মসংস্থানসংক্রান্ত ইএসডিপি-এমওসি (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে চলা আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কর্মসংস্থান সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

চুক্তির বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি জাপানে কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বাড়বে। এর ফলে তাদের উচ্চ বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদে জাপানে বসবাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মন্ত্রী আরও জানান, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশেষ করে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ কারণে কোনো নারী কর্মীকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও চুক্তিতে রাখা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ আরও প্রসারিত হবে।