Dhaka ০১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভালোবাসার দেউলিয়াত্ব

তাহমিনা মুন্নী
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3

যে ঋণের কোনো ব্যাংক নেই, কোনো কড়ায়-গণ্ডায় হিসাবের খাতা নেই, অথচ যা পরিশোধ করতে গিয়ে মানুষ সারা জীবন নিঃস্ব হয়েও আনন্দ পায়—ভালোবাসার সেই অদৃশ্য ঋণ বড় আজব। ভালোবাসার কোনো রেজিস্ট্রি অফিস থাকে না, থাকে না কোনো সুদের হার বা কিস্তি শোধের তাগিদ। তবুও মানুষ সবচেয়ে বড় ঋণগ্রস্ত হয় এই অনুভূতির কাছেই।

​যেদিন কেউ হঠাৎ করে এসে তোমার মলিন চুলে গুঁজে দেয় একরত্তি নরম শিউলি, কিংবা ঝোড়ো হাওয়ায় নিজের কাঁধটা একটু বাড়িয়ে দেয় ছাতার মতো—ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই তুমি আর একা নও। তোমার অজান্তেই জমা হতে থাকে এক সুগভীর ঋণ। আমরা কোটি টাকা শোধ করতে পারি, ধার করা বই ফিরিয়ে দিতে পারি সময়মতো, এমনকি কৃতজ্ঞতা জানাতে পারি ধন্যবাদ দিয়েও। কিন্তু চোখের পলকে ভালোবেসে ফেলা সেই মানুষটার কাছে আমাদের যে জমাকর্তব্য, তার কোনো পরিমাপ নেই। সে যখন আনমনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তখন তোমার বুক জুড়ে যে মোচড় লাগে—সেটাই কি ওই ঋণের প্রথম কিস্তি নয়?

​এই ঋণ বড্ড অদ্ভুত। যত বেশি শোধ করতে যাও, এর অঙ্কটা যেন ততই বেড়ে যায়। তুমি একটা লাল গোলাপ দিলে, সে ফিরিয়ে দিল এক বুক আকাশ। তুমি একটুখানি শান্তি দিতে চাইলে, সে নিজের সবটুকু রোদ তোমার আঙিনায় ঢেলে দিল। এ এক মোহময় দেউলিয়াত্ব, যেখানে সর্বস্বান্ত হয়েও মনে হয়—আহা, কী অপার শান্তি!
​জীবনের শেষ হিসাবে মানুষ যখন সব হিসাব চুকিয়ে দিতে চায়, তখনো এই ভালোবাসার হিসাব মেলানো যায় না। থেকে যায় কিছু না-বলা কথা, কিছু অসমাপ্ত বিকেল আর বুকের বাঁপাশে একটুখানি চিনচিনে ব্যথা। এই ঋণ আজীবন থেকে যাক। এ ঋণ শোধ করার চেয়ে আজীবন ঋণী হয়ে বেঁচে থাকাতেই তো জীবনের আসল সার্থকতা।
​

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভালোবাসার দেউলিয়াত্ব

প্রকাশের সময় : ১২:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

যে ঋণের কোনো ব্যাংক নেই, কোনো কড়ায়-গণ্ডায় হিসাবের খাতা নেই, অথচ যা পরিশোধ করতে গিয়ে মানুষ সারা জীবন নিঃস্ব হয়েও আনন্দ পায়—ভালোবাসার সেই অদৃশ্য ঋণ বড় আজব। ভালোবাসার কোনো রেজিস্ট্রি অফিস থাকে না, থাকে না কোনো সুদের হার বা কিস্তি শোধের তাগিদ। তবুও মানুষ সবচেয়ে বড় ঋণগ্রস্ত হয় এই অনুভূতির কাছেই।

​যেদিন কেউ হঠাৎ করে এসে তোমার মলিন চুলে গুঁজে দেয় একরত্তি নরম শিউলি, কিংবা ঝোড়ো হাওয়ায় নিজের কাঁধটা একটু বাড়িয়ে দেয় ছাতার মতো—ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই তুমি আর একা নও। তোমার অজান্তেই জমা হতে থাকে এক সুগভীর ঋণ। আমরা কোটি টাকা শোধ করতে পারি, ধার করা বই ফিরিয়ে দিতে পারি সময়মতো, এমনকি কৃতজ্ঞতা জানাতে পারি ধন্যবাদ দিয়েও। কিন্তু চোখের পলকে ভালোবেসে ফেলা সেই মানুষটার কাছে আমাদের যে জমাকর্তব্য, তার কোনো পরিমাপ নেই। সে যখন আনমনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তখন তোমার বুক জুড়ে যে মোচড় লাগে—সেটাই কি ওই ঋণের প্রথম কিস্তি নয়?

​এই ঋণ বড্ড অদ্ভুত। যত বেশি শোধ করতে যাও, এর অঙ্কটা যেন ততই বেড়ে যায়। তুমি একটা লাল গোলাপ দিলে, সে ফিরিয়ে দিল এক বুক আকাশ। তুমি একটুখানি শান্তি দিতে চাইলে, সে নিজের সবটুকু রোদ তোমার আঙিনায় ঢেলে দিল। এ এক মোহময় দেউলিয়াত্ব, যেখানে সর্বস্বান্ত হয়েও মনে হয়—আহা, কী অপার শান্তি!
​জীবনের শেষ হিসাবে মানুষ যখন সব হিসাব চুকিয়ে দিতে চায়, তখনো এই ভালোবাসার হিসাব মেলানো যায় না। থেকে যায় কিছু না-বলা কথা, কিছু অসমাপ্ত বিকেল আর বুকের বাঁপাশে একটুখানি চিনচিনে ব্যথা। এই ঋণ আজীবন থেকে যাক। এ ঋণ শোধ করার চেয়ে আজীবন ঋণী হয়ে বেঁচে থাকাতেই তো জীবনের আসল সার্থকতা।
​