Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় মা ও ভাতিজিকে খুন’

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4

 

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিজ মা পিয়ারা বেগম ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহানকে কুপিয়ে ও আছাড় দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আটক যুবক ইমন মিয়া (২৯)। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪-এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে তিনি এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মঙ্গলবার আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান জানান, ১৬৪ ধারায় ইমনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আসামি ইমন মিয়া ওই গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইমনের পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে আঘাত লাগে এবং লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েও কোনো সুফল পাননি। বন্ধু ও স্বজনদের সহায়তায় তার পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচারও করা হয়।

সম্প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর তার পায়ের যন্ত্রণা আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও পায়ের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন তিনি।

গত রবিবার রাতে পায়ের তীব্র যন্ত্রণা সইতে না পেরে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তার মা পিয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাকে বাধা দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে ইমন মা ও ভাবির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাকে হত্যা করতে অথবা পা কেটে দিতে মাকে অনুরোধ করেন। মা তাকে নিবৃত্ত করতে গেলে ইমন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।

শাশুড়িকে বাঁচাতে রাবেয়া ছুটে এলে তার কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু ইসরাতকে তুলে নিয়ে ইমন দুইবার আছাড় মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই মা পিয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাতের মৃত্যু হয়। এ সময় রাবেয়া বেগমকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন ইমন।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবেয়াকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিবুস সালাম খান জানান, রাবেয়ার মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে ইমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন।

এদিকে সোমবার রাতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে বিচারক ইমন মিয়াকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় মা ও ভাতিজিকে খুন’

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিজ মা পিয়ারা বেগম ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহানকে কুপিয়ে ও আছাড় দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আটক যুবক ইমন মিয়া (২৯)। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪-এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে তিনি এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মঙ্গলবার আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান জানান, ১৬৪ ধারায় ইমনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আসামি ইমন মিয়া ওই গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইমনের পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে আঘাত লাগে এবং লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েও কোনো সুফল পাননি। বন্ধু ও স্বজনদের সহায়তায় তার পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচারও করা হয়।

সম্প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর তার পায়ের যন্ত্রণা আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও পায়ের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন তিনি।

গত রবিবার রাতে পায়ের তীব্র যন্ত্রণা সইতে না পেরে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তার মা পিয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাকে বাধা দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে ইমন মা ও ভাবির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাকে হত্যা করতে অথবা পা কেটে দিতে মাকে অনুরোধ করেন। মা তাকে নিবৃত্ত করতে গেলে ইমন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।

শাশুড়িকে বাঁচাতে রাবেয়া ছুটে এলে তার কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু ইসরাতকে তুলে নিয়ে ইমন দুইবার আছাড় মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই মা পিয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাতের মৃত্যু হয়। এ সময় রাবেয়া বেগমকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন ইমন।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবেয়াকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিবুস সালাম খান জানান, রাবেয়ার মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে ইমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন।

এদিকে সোমবার রাতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে বিচারক ইমন মিয়াকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।