সৌদির তিন শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১৩ বেসামরিক
- প্রকাশের সময় : ১০:৪৬:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 13
সৌদি আরবের তিন শহর খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। এতে ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলায় অন্তত সাতটি বাড়িঘর ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাতে হামলার পর মঙ্গলবার ভোরে সৌদি আরবের আবহা, জেদ্দা, জাজান, তাইফ, ইয়ানবু ও আলুলাসহ পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়।
ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, হুথি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। এসব হামলা তাদের সহিংস কর্মকাণ্ডেরই প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, এসব হামলা মোকাবিলায় সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোট যথাযথ দায়িত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে সৌদি আরব, দেশটির বেসামরিক নাগরিক এবং অবকাঠামো রক্ষায় কাজ করবে।
সোমবারের হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রোববার ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সৌদি আরবের চালানো প্রায় ৭০টি বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় সোমবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনে বাব এল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব। হুথিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত সৌদি বিমানবাহিনী ১৩০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীও উত্তর ইয়েমেন ও রাজধানী সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো মুখপাত্র সাম্প্রতিক বিমান অভিযান নিয়ে মন্তব্য করেননি। তবে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি বিমান হামলাগুলো এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে থাকা ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। রাজধানী সানাসহ হুথিদের ক্ষমতার প্রধান কেন্দ্রগুলো এখনো এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়নি।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত চলে আসছে। ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। পরে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনর্বহাল করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়।
বর্তমানে ইয়েমেনের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি অংশ সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ























