Dhaka ০২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
পিআইবির মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফের নিয়োগ আরও এক বছর আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে ওসিদের কড়া বার্তা হাইকোর্টে তথ্য গোপন করে হাদি হত্যা মামলার আসামির জামিন আবেদন শাহজালাল মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রী সুপর্ণার ২ বছরের কারাদণ্ড গোলা বিস্ফোরণে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা ওবায়দুল কাদেরসহ আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদ ও আহতদের দেওয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতি হয়ে প্রথমবার পুণ্যভূমি সিলেটে মির্জা ফখরুল ইসলাম ইউপি ভোটের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না : মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

হাইকোর্টে তথ্য গোপন করে হাদি হত্যা মামলার আসামির জামিন আবেদন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2

 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার এক আসামি নিজের বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে শুনানির সময় আদালতের প্রশ্নে বিষয়টি ধরা পড়ায় তার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তথ্য গোপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হাদি হত্যা মামলার আসামি মো. আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী বাচ্চু মিয়া। নিয়ম অনুযায়ী, জামিন আবেদনের শুরুতে থাকা কজ টাইটেলে আসামির বিরুদ্ধে থাকা মামলার ধারাগুলো উল্লেখ করার কথা। কিন্তু রাজুর আবেদনে তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

শুনানির শুরুতে আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবী মশিউর রহমানের কাছে জানতে চান, রাজু কোনো হত্যা মামলার আসামি কি না। এ প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী নীরব থাকেন। পরে আদালত মামলার ভুক্তভোগীর নাম জানতে চাইলে তিনি শুধু ‘ওসমান’ বলে উত্তর দেন।

এতে আদালতের সন্দেহ হয়। পরে জামিন আবেদনের সঙ্গে থাকা নথি পর্যালোচনা করে আদালত জানতে পারেন, আবেদনকারী আমিনুল ইসলাম রাজু শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত তার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন এবং তথ্য গোপনের বিষয়ে আইনজীবীকে সতর্ক করেন।

এর আগে হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগে আমিনুল ইসলাম রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকা থেকে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা জানান এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ মামলায় এর আগে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার, মারিয়ার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির এবং ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যু হলে ওই মামলায় হত্যার ধারা ৩০২ যুক্ত করা হয়।

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হাইকোর্টে তথ্য গোপন করে হাদি হত্যা মামলার আসামির জামিন আবেদন

প্রকাশের সময় : ০১:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার এক আসামি নিজের বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে শুনানির সময় আদালতের প্রশ্নে বিষয়টি ধরা পড়ায় তার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তথ্য গোপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হাদি হত্যা মামলার আসামি মো. আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী বাচ্চু মিয়া। নিয়ম অনুযায়ী, জামিন আবেদনের শুরুতে থাকা কজ টাইটেলে আসামির বিরুদ্ধে থাকা মামলার ধারাগুলো উল্লেখ করার কথা। কিন্তু রাজুর আবেদনে তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

শুনানির শুরুতে আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবী মশিউর রহমানের কাছে জানতে চান, রাজু কোনো হত্যা মামলার আসামি কি না। এ প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী নীরব থাকেন। পরে আদালত মামলার ভুক্তভোগীর নাম জানতে চাইলে তিনি শুধু ‘ওসমান’ বলে উত্তর দেন।

এতে আদালতের সন্দেহ হয়। পরে জামিন আবেদনের সঙ্গে থাকা নথি পর্যালোচনা করে আদালত জানতে পারেন, আবেদনকারী আমিনুল ইসলাম রাজু শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত তার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন এবং তথ্য গোপনের বিষয়ে আইনজীবীকে সতর্ক করেন।

এর আগে হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগে আমিনুল ইসলাম রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকা থেকে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা জানান এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ মামলায় এর আগে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার, মারিয়ার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির এবং ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যু হলে ওই মামলায় হত্যার ধারা ৩০২ যুক্ত করা হয়।