Dhaka ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে কেউ কেউ বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন : আইনমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার আলেয়া মান্নানের কবিতা ‘আমি কবি নই’ নবীনবরণে গোলাম আযমের বই উপহার, সমালোচনার ঝড় কালুখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা স্বামী হত্যার বিচার চাওয়ার ‘শাস্তি’, মায়ের সঙ্গে ১৫ মাসের শিশুর কারাবাস জামায়াতের কারণে গুলশানসহ সারাদেশে বিক্ষোভের সাহস পাচ্ছে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন রাজবাড়ীতে ছাত্র মৈত্রীর ১৬তম জেলা সম্মেলন শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ : স্পিকার
চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে ৬৩ বিদেশি আটক

অনলাইনে স্ক্যামিং চক্রের ভয়ঙ্কর ফাঁদ, প্রতারণায় নিঃস্ব অনেকে

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 22

অনলাইনের অদৃশ্য জগতে পাতা হচ্ছে ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ। ল্যাপটপ-মোবাইলের আড়ালে সক্রিয় সংঘবদ্ধ স্ক্যামিং চক্র, টার্গেট সাধারণ মানুষ। প্রলোভন আর কৌশলের জালে আটকে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে। চট্টগ্রামের খুলশীর একটি ভবনে পুলিশের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এমনই এক অনলাইন প্রতারণার চিত্র।

সেখানে আটতলা ওই ভবনটি থেকে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে ভবনটি থেকে ৫৭টি ল্যাপটপ, ১৩৪টি মোবাইল ফোন, একটি ট্যাবসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের ওই ভবনে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে অভিযান শুরু করে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে অভিযান শেষ হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য। দেশি-বিদেশি সহযোগীদের সহায়তায় তারা ভবনটিতে অনলাইন প্রতারণার কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে দেশীয় সহযোগীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

আটক ব্যক্তিদের কারও পাসপোর্ট উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে তাঁরা কখন এবং কীভাবে বাংলাদেশে এসেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আটক ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তাদের পাসপোর্ট একজন বাংলাদেশির কাছে জমা রাখা হয়েছে। ওই ব্যক্তি এবং স্থানীয়ভাবে ভবনটি ভাড়া নিতে সহায়তাকারী ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক ৬৩ জনের মধ্যে চীনের পাঁচজন, লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন নারী।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন জুয়া ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অনলাইন অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে এসব কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য তাঁদের দেশি-বিদেশি সহযোগী রয়েছে। এসব সহযোগীর কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন।

পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে খুলশীর ওই ভবনে অবস্থান করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। এ ছাড়া আইনানুগ কর্তৃত্বের বাইরে ইলেকট্রনিক লেনদেনের মাধ্যমেও তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অনলাইনে স্ক্যামিং চক্রের ভয়ঙ্কর ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে ৬৩ বিদেশি আটক

অনলাইনে স্ক্যামিং চক্রের ভয়ঙ্কর ফাঁদ, প্রতারণায় নিঃস্ব অনেকে

প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইনের অদৃশ্য জগতে পাতা হচ্ছে ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ। ল্যাপটপ-মোবাইলের আড়ালে সক্রিয় সংঘবদ্ধ স্ক্যামিং চক্র, টার্গেট সাধারণ মানুষ। প্রলোভন আর কৌশলের জালে আটকে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে। চট্টগ্রামের খুলশীর একটি ভবনে পুলিশের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এমনই এক অনলাইন প্রতারণার চিত্র।

সেখানে আটতলা ওই ভবনটি থেকে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে ভবনটি থেকে ৫৭টি ল্যাপটপ, ১৩৪টি মোবাইল ফোন, একটি ট্যাবসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের ওই ভবনে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে অভিযান শুরু করে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে অভিযান শেষ হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য। দেশি-বিদেশি সহযোগীদের সহায়তায় তারা ভবনটিতে অনলাইন প্রতারণার কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে দেশীয় সহযোগীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

আটক ব্যক্তিদের কারও পাসপোর্ট উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে তাঁরা কখন এবং কীভাবে বাংলাদেশে এসেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আটক ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তাদের পাসপোর্ট একজন বাংলাদেশির কাছে জমা রাখা হয়েছে। ওই ব্যক্তি এবং স্থানীয়ভাবে ভবনটি ভাড়া নিতে সহায়তাকারী ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক ৬৩ জনের মধ্যে চীনের পাঁচজন, লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন নারী।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন জুয়া ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অনলাইন অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে এসব কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য তাঁদের দেশি-বিদেশি সহযোগী রয়েছে। এসব সহযোগীর কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন।

পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে খুলশীর ওই ভবনে অবস্থান করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। এ ছাড়া আইনানুগ কর্তৃত্বের বাইরে ইলেকট্রনিক লেনদেনের মাধ্যমেও তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অনলাইনে স্ক্যামিং চক্রের ভয়ঙ্কর ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।