জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান
- প্রকাশের সময় : ০৯:১০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে একটি এ-১০ ‘ওয়ারথগ’ এবং প্রায় আটটি এফ-১৫ রয়েছে। এর মধ্যে এ-১০ যুদ্ধবিমানটির একটি ডানা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের প্রতিবেদক জেনিফার জ্যাকবসের বরাত দিয়ে দ্য জেরুজালেম পোস্ট, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও লাইভমিন্ট জানিয়েছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে রাতভর ইরানি হামলায় এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরাসরি হামলায় এ-১০ থান্ডারবোল্ট, যা ‘ওয়ারথগ’ নামেও পরিচিত, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একটি ডানা হারিয়েছে। অন্যদিকে প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে সেগুলো আবার ব্যবহারে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলার সময় জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি জর্ডানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে ঘাঁটিটি ব্যবহার হয়ে আসছে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা
জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
এর আগে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করার কথা জানায়। ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাবে এসব ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।
এরপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর পাল্টা হামলার দাবি করে। ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, তারা একাধিক জাহাজ ও মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কোনো মার্কিন নৌযান আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি এবং ইরানি বাহিনীর নৌযান লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে তারা ইরানের ১০টি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে।
জর্ডানকে ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জর্ডান চলমান সংঘাতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। দেশটিতে একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনা থাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি সংঘাতের প্রভাব জর্ডানের ওপরও পড়ছে।
সর্বশেষ হামলার আগে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এর আগেও ইরানি হামলায় জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
হরমুজ ঘিরেও উত্তেজনা
জর্ডানে হামলার পাশাপাশি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।
গত কয়েক দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে বেশ কয়েকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা তাই শুধু একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত যে মধ্যপ্রাচ্যের আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, সর্বশেষ এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পেতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করতে হবে।






















