Dhaka ১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বালিয়াকান্দিতে এসিআর স্বাক্ষর না করায় শিক্ষা কর্মকর্তা অবরুদ্ধ ‘ডিবি’ হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে দুদক দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু ১২ সেপ্টেম্বর ছয় মাসে রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২৫ কোটি টাকা : রেলমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৬৩ শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আইন নির্ধারণ করবে : আইনমন্ত্রী ভোলাতে গড়ে তোলা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা : সংসদে প্রধানমন্ত্রী রাজবাড়ীর পাংশায় দুই হত্যা মামলার আসামি অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার দাপ্তরিক নথিতে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার নির্দেশ মান্দায় ২৫০ লিটার ওয়াশ চোলাই মদসহ যুবক গ্রেফতার

বালিয়াকান্দিতে এসিআর স্বাক্ষর না করায় শিক্ষা কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

বদলির আদেশ সরকারি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) স্বাক্ষর নিয়ে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ৫৩ জন প্রধান শিক্ষকের এসিআর স্বাক্ষর না করার অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারকে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিক্ষা অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা। এ সময় শতাধিক শিক্ষক অফিসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদানের আগে ৫৩ জন প্রধান শিক্ষকের এসিআর সম্পন্ন না করায় তাদের চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে কয়েক দফা অনুরোধের পরও সমাধান না হওয়ায় শিক্ষকরা শিক্ষা অফিসে অবস্থান নেন বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষকরা শিক্ষা অফিসের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে ফটক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা অফিসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শিক্ষকরা বাইরে থেকে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং এসিআর স্বাক্ষরের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াহিয়া ইসলাম বলেন, ৫৩ জন প্রধান শিক্ষকের এসিআর এখনো স্বাক্ষর হয়নি। তার ভাষ্য, এসিআর চাকরিজীবীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও চাকরিসংক্রান্ত কাজে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন তদন্তের ফলাফল বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ছাড়া সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, বালিয়াকান্দির উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এসিআর স্বাক্ষরের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের এসিআর সম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

আগামী রবিবার তাজমুন্নাহারের খোকসা উপজেলায় যোগদানের কথা রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, শিক্ষকদের উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহার। তিনি বলেন, কয়েকজন শিক্ষক তার কাছে অনৈতিক দাবি নিয়ে এসেছিলেন। নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করতে তিনি রাজি নন বলেও জানান তিনি।

গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে মোছা. তাজমুন্নাহারকে বালিয়াকান্দি উপজেলা থেকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বদলি করা হয়।

এসিআর স্বাক্ষর নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা দ্রুত প্রশাসনিক সমাধান চান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের অভিযোগ ও শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে প্রধান শিক্ষকদের চাকরিসংক্রান্ত কাজে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বালিয়াকান্দিতে এসিআর স্বাক্ষর না করায় শিক্ষা কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বদলির আদেশ সরকারি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) স্বাক্ষর নিয়ে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ৫৩ জন প্রধান শিক্ষকের এসিআর স্বাক্ষর না করার অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারকে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিক্ষা অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা। এ সময় শতাধিক শিক্ষক অফিসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদানের আগে ৫৩ জন প্রধান শিক্ষকের এসিআর সম্পন্ন না করায় তাদের চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে কয়েক দফা অনুরোধের পরও সমাধান না হওয়ায় শিক্ষকরা শিক্ষা অফিসে অবস্থান নেন বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষকরা শিক্ষা অফিসের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে ফটক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা অফিসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শিক্ষকরা বাইরে থেকে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং এসিআর স্বাক্ষরের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াহিয়া ইসলাম বলেন, ৫৩ জন প্রধান শিক্ষকের এসিআর এখনো স্বাক্ষর হয়নি। তার ভাষ্য, এসিআর চাকরিজীবীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও চাকরিসংক্রান্ত কাজে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন তদন্তের ফলাফল বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ছাড়া সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, বালিয়াকান্দির উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এসিআর স্বাক্ষরের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের এসিআর সম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

আগামী রবিবার তাজমুন্নাহারের খোকসা উপজেলায় যোগদানের কথা রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, শিক্ষকদের উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহার। তিনি বলেন, কয়েকজন শিক্ষক তার কাছে অনৈতিক দাবি নিয়ে এসেছিলেন। নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করতে তিনি রাজি নন বলেও জানান তিনি।

গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে মোছা. তাজমুন্নাহারকে বালিয়াকান্দি উপজেলা থেকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বদলি করা হয়।

এসিআর স্বাক্ষর নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা দ্রুত প্রশাসনিক সমাধান চান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের অভিযোগ ও শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে প্রধান শিক্ষকদের চাকরিসংক্রান্ত কাজে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।