আকস্মিক বন্যা: ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল
- প্রকাশের সময় : ১০:৩০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2
নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানের জন্য ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কার্বন নিঃসরণকে দায়ী করছে দেশটির সরকার। এ কারণে দেশ তিনটির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার উদ্যোগ নিয়েছে কাঠমান্ডু।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিষয়টি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে নেপাল। এ নিয়ে জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল কান্তিপুর টিভিকে বলেছেন, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। এসব নিঃসরণের প্রভাব নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পড়ছে। তাই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ওই দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল।
ক্ষতিপূরণের দাবিকে ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করেছে কাঠমান্ডু। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা কোনো ধরনের সাহায্য বা দয়া চান না; বরং ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চান। তার ভাষায়, এটি দয়াদাক্ষিণ্যের বিষয় নয়, বরং নৈতিক ও আইনগত দায়বদ্ধতার বিষয়।
নেপাল সরকার প্রাথমিকভাবে হিসাব করেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিশেষ তহবিল থেকেও জরুরি অর্থ সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।
তবে নেপালের অবস্থান হলো, এই অর্থকে সাধারণ অনুদান হিসেবে নয়, ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা দেশগুলোর কাছ থেকেই সেই ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি করছে কাঠমান্ডু।
এ বিষয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শুরুতে সেখানে নেপালের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের। তবে ক্ষতিপূরণের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীকেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর নেপালের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের জন্য ধনী দেশগুলোর অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকে দায়ী করেন। তার মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস এবং এর ফলে সৃষ্ট হড়পা বানের ঝুঁকি বেড়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে ধনী দেশগুলো বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করলেও এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি ভোগ করছে নেপালের মতো দুর্বল দেশগুলো। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনে এসব দেশের অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
২৬ আগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পর বুধবার সকাল পর্যন্ত ১ হাজার ১২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার ৮৫৮ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যা ও হড়পা বানে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি নেপালের সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপর্যয়ের পর এবার জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির দায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব হচ্ছে দেশটি।



















