কুপিয়ে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন, ১৭ ঘণ্টা পর ছেলে গ্রেপ্তার
- প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 3
যশোরে মাকে কুপিয়ে মাথা বিচ্ছন্নকারী ছেলে মামুনুর রশিদকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
হত্যাকাণ্ডের ১৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে যশোর সদর উপজেলার তেঘরিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য মাকে দায়ী করতেন মামুনুর। এ নিয়ে বিরোধের জেরে মাকে হত্যা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বাজেদুর্গাপুর এলাকায় আনোয়ারা খাতুনকে (৬৫) হত্যা করা হয়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেনের স্ত্রী।
পিবিআই জানায়, ঘটনার সময় মামুনুর বাড়িতে এসে মায়ের কাছে গোসলের জন্য গামছা চান। এ সময় দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে আনোয়ারা ঘরের দিকে যেতে পেছন ফিরলে পাশে থাকা তরকারি কাটার বটি দিয়ে তার পিঠে কোপ দেন মামুনুর। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর মুখমণ্ডল, মাথা, পিঠ ও হাতে একাধিক কোপ দেন ছেলে। পরে কুপিয়ে মায়ের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান মামুনুর।
পিবিআই বলেছে, হত্যার পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান মামুনুর। পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে তার অবস্থান শনাক্তের পর শুক্রবার সকালে তেঘরিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামুনুর রশিদ একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পেছনে মায়ের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি ধারণা করতেন।
এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় নিহতের অপর ছেলে মঞ্জুর হাসান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। পরে পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামুনুরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।



















