আকাশে বিরল চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চল থেকে
- প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 1
রাতের আকাশে আবারও তৈরি হতে যাচ্ছে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য। আজ বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ২৮ আগস্ট ভোর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখা যাবে গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এ সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ ঢেকে যেতে পারে। গ্রহণের প্রভাবে চাঁদের বড় একটি অংশ লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করতে পারে।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময়ের পার্থক্যের কারণে এই চন্দ্রগ্রহণ ২৭ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে দৃশ্যমান হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক সময় প্রায় ৪টা ১২ মিনিটে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
কোথা থেকে দেখা যাবে
আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে পুরো চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে চাঁদ ওঠা বা অস্ত যাওয়ার সময় গ্রহণের একটি অংশ দেখা যাবে।
এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ নয়। কারণ গ্রহণের সময় চাঁদের সামান্য একটি অংশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন ছায়ার বাইরে থাকবে। তবে পৃথিবীর গাঢ় ছায়া বা আমব্রার মধ্যে থাকা অংশে লালচে বা তামাটে আভা দেখা দিতে পারে।
চাঁদ লালচে দেখাবে কেন
চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ছড়িয়ে পড়ে ও প্রতিসরিত হয়। সেই আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানোর ফলে গ্রহণগ্রস্ত অংশে লালচে আভা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের দৃশ্যকে অনেক সময় ব্লাড মুন বলা হয়।
গ্রহণ কতক্ষণ চলবে
চন্দ্রগ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে। তবে গভীর আংশিক গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে এর চেয়ে অনেক কম।
সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ পৃথিবীর আমব্রার মধ্যে থাকবে বলে নাসা ও বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ চাঁদের বেশির ভাগ অংশই তখন পৃথিবীর গাঢ় ছায়ার মধ্যে থাকবে।
সম্প্রতি হয়েছিল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ
এর মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে, ১২ আগস্ট একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেটি দেখা গিয়েছিল।
সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত কাছাকাছি সময়ে জোড়ায় ঘটে। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের নির্দিষ্ট সরলরৈখিক বিন্যাসের কারণেই এমনটা হয়ে থাকে।
চন্দ্রগ্রহণ দেখতে কি চোখের সুরক্ষা দরকার
সূর্যগ্রহণের বিপরীতে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য চোখের বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না। দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের গ্রহণগ্রস্ত অংশ আরও কাছ থেকে দেখা যাবে।
আকাশ পরিষ্কার থাকলে এবং দিগন্তে কোনো বাধা না থাকলে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি





















