Dhaka ০৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য ১০ জরুরি নির্দেশনা জারি দেশে ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী জাককানইবিতে ডিবি-পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদ, আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটিতে এমপি ফজলুর রহমান প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না : ভারত ১২ বছরের সেই শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে দুই পর্যটকের মৃত্যু

‘চায়নাম্যান থেকে আর্মসম্যান’ ডেভিড ইমন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • / 6

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন। একসময় জাতীয় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করেছিলেন তিনি। বাঁ-হাতি রিস্ট স্পিনার বা ‘চায়নাম্যান’ হিসেবে পরিচিত থাকায় দেশি-বিদেশি দলের নেট বোলার হিসেবেও ডাক পেতেন। তবে সেই স্বপ্নের পথ ছেড়ে পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পান।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ডেভিড ইমন অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে সাতটি হত্যাসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইমন গ্রেপ্তারের পর তার সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।

চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের কোচ ও ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ মাসুম উদ দৌলা বলেন, ডেভিড ইমন সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডার ছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে করোনা মহামারির আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত অনুশীলন করতেন। চট্টগ্রামে সফরে আসা দেশি-বিদেশি দলের নেট বোলার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০২০ সালের পর তিনি ক্রিকেট থেকে হারিয়ে যান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, করোনা-পরবর্তী সময়ে ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে যান। এ সময় তিনি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’ এবং বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘শিবির সাজ্জাদ’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অপরাধচক্রের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

পুলিশের তথ্যমতে, এই চক্র তিন স্তরের অপরাধ কাঠামোর মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। বিদেশে অবস্থানকারী গডফাদাররা অনলাইনে নির্দেশনা দিতেন, দ্বিতীয় স্তরে থাকা সদস্যরা ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং স্থানীয় কিশোর গ্যাং বা ভাসমান অপরাধীরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করত।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ডেভিড ইমন। এরপর শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা, ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে তার নাম উঠে আসে। পুলিশের দাবি, তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং তিনি অস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ।

গতকাল ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যশোর থেকে আটক হওয়ার পর তাকে একটি হত্যা ও দুটি অস্ত্র মামলাসহ তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে, যার শুনানি আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘চায়নাম্যান থেকে আর্মসম্যান’ ডেভিড ইমন

প্রকাশের সময় : ০১:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন। একসময় জাতীয় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করেছিলেন তিনি। বাঁ-হাতি রিস্ট স্পিনার বা ‘চায়নাম্যান’ হিসেবে পরিচিত থাকায় দেশি-বিদেশি দলের নেট বোলার হিসেবেও ডাক পেতেন। তবে সেই স্বপ্নের পথ ছেড়ে পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পান।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ডেভিড ইমন অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে সাতটি হত্যাসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইমন গ্রেপ্তারের পর তার সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।

চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের কোচ ও ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ মাসুম উদ দৌলা বলেন, ডেভিড ইমন সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডার ছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে করোনা মহামারির আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত অনুশীলন করতেন। চট্টগ্রামে সফরে আসা দেশি-বিদেশি দলের নেট বোলার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০২০ সালের পর তিনি ক্রিকেট থেকে হারিয়ে যান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, করোনা-পরবর্তী সময়ে ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে যান। এ সময় তিনি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’ এবং বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘শিবির সাজ্জাদ’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অপরাধচক্রের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

পুলিশের তথ্যমতে, এই চক্র তিন স্তরের অপরাধ কাঠামোর মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। বিদেশে অবস্থানকারী গডফাদাররা অনলাইনে নির্দেশনা দিতেন, দ্বিতীয় স্তরে থাকা সদস্যরা ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং স্থানীয় কিশোর গ্যাং বা ভাসমান অপরাধীরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করত।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ডেভিড ইমন। এরপর শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা, ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে তার নাম উঠে আসে। পুলিশের দাবি, তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং তিনি অস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ।

গতকাল ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যশোর থেকে আটক হওয়ার পর তাকে একটি হত্যা ও দুটি অস্ত্র মামলাসহ তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে, যার শুনানি আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে।