টিকা-চিকিৎসা থাকলেও বাড়ছে হেপাটাইটিসের ঝুঁকি
- প্রকাশের সময় : ১২:৫০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / 4
আজ (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। হেপাটাইটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হিসেবে নির্মূল করার লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস: লেটস ব্রেক ইট ডাউন’, যার মূল আহ্বান হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসার পথে থাকা আর্থিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা দূর করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে হেপাটাইটিস শনাক্তের নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা, কার্যকর টিকা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো পরীক্ষা না করানোর কারণে অনেক মানুষ এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে নারীদের বিউটি পার্লার ও পুরুষদের সেলুনে একই ব্লেড একাধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে হেপাটাইটিস বি-সহ রক্তবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, হেপাটাইটিস মূলত লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। এটি এ, বি, সি, ডি ও ই—এই পাঁচ ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে হতে পারে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বল্পমেয়াদি। অন্যদিকে, হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি রক্ত বা শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি বা সি নিয়ে বসবাস করছিলেন। একই বছরে এ দুটি সংক্রমণে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্যবহৃত ব্লেড, ক্ষুর কিংবা রক্তের সংস্পর্শে আসা অন্যান্য যন্ত্র যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করলে হেপাটাইটিস বি (এইচবিভি) ও হেপাটাইটিস সি (এইচসিভি) ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
চট্টগ্রামে জেলা বা মহানগরভিত্তিক হেপাটাইটিস বি রোগীর সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও, রক্তদাতাদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় হেপাটাইটিস বি পজিটিভের হার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি আলোচিত। ২০০৩ সাল থেকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে নবজাতকদের হেপাটাইটিস বি টিকা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাদান ও নিয়মিত স্ক্রিনিং এখনও পর্যাপ্ত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিসের অন্যতম বড় সমস্যা হলো প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, পেটব্যথা, বমিভাব, গাঢ় রঙের প্রস্রাব ও জন্ডিস দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে হেপাটাইটিস সি দীর্ঘদিন নীরবে লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামের অ্যাটেন্ডিং কনসালটেন্ট (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি) ডা. এস. এম. সোহেল রানা বলেন, বর্তমানে হেপাটাইটিস বি ও সি রোগীদের জন্য উন্নতমানের স্ক্রিনিং, পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহজলভ্য। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টিকাদানের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।





















