Dhaka ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিক্ষোভের আগের রাতে থমথমে দিল্লি, ট্রেনের পর ইন্টারনেটও বন্ধ ঘোষণা দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরলে দায় জামায়াতকে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ সৌদি আরবে হুতিদের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ না বললে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে: হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩১৭ রান সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল, তিন ঘণ্টা কোথায় ছিলেন তাজমিন? মানসিক অসুস্থতা ঘিরে কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজবাড়ীর আমবাগান থেকে ৪২টি ককটেল উদ্ধার রাজবাড়ীতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন দুই শতাধিক রোগী কুমিল্লায় তাজমিন হত্যায় সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলায় সমালোচনায় ফেনী জেলা পরিষদ প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • / 91

ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ‘প্রিয় নবী’ বলে উল্লেখ করেন। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এম এ খালেক।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বন, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার, আপনার, সবার প্রিয় নবী, প্রিয় মানুষ।”

এ বক্তব্যের পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ফিসফাস ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকেই এ বক্তব্যকে অনভিপ্রেত ও আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলেম বলেন, “নবী শব্দটি ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও নির্দিষ্ট অর্থবহ। কোনো সাধারণ ব্যক্তিকে নবীর সঙ্গে তুলনা করা ধর্মীয় দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।”

এদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের অনেকেই বিষয়টিকে অসতর্ক বক্তব্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। জেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায় দল নেবে না।

এম এ খালেক এর আগেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছেন। গত ১৬ এপ্রিল ফেনী সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ানো নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের সম্মাননা সাধারণত রাষ্ট্রীয় বা বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য।

এর আগে ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ভুলবশত বিএনপিকেই ‘ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল’ বলে উল্লেখ করেন। পরে তিনি সেটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে বলা কথা হিসেবে ব্যাখ্যা করে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

সাম্প্রতিক এ বক্তব্য নিয়ে এখনো অধ্যাপক এম এ খালেকের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলায় সমালোচনায় ফেনী জেলা পরিষদ প্রশাসক

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ‘প্রিয় নবী’ বলে উল্লেখ করেন। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এম এ খালেক।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বন, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার, আপনার, সবার প্রিয় নবী, প্রিয় মানুষ।”

এ বক্তব্যের পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ফিসফাস ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকেই এ বক্তব্যকে অনভিপ্রেত ও আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলেম বলেন, “নবী শব্দটি ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও নির্দিষ্ট অর্থবহ। কোনো সাধারণ ব্যক্তিকে নবীর সঙ্গে তুলনা করা ধর্মীয় দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।”

এদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের অনেকেই বিষয়টিকে অসতর্ক বক্তব্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। জেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায় দল নেবে না।

এম এ খালেক এর আগেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছেন। গত ১৬ এপ্রিল ফেনী সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ানো নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের সম্মাননা সাধারণত রাষ্ট্রীয় বা বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য।

এর আগে ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ভুলবশত বিএনপিকেই ‘ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল’ বলে উল্লেখ করেন। পরে তিনি সেটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে বলা কথা হিসেবে ব্যাখ্যা করে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

সাম্প্রতিক এ বক্তব্য নিয়ে এখনো অধ্যাপক এম এ খালেকের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।