Dhaka ১১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রবীণ দুজন সাংস্কৃতিক সংগঠকের উপর বখাটেদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন স্মারকলিপি এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা গ্রেপ্তার ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী ট্রেন-মেট্রোরেলে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের ভাড়ায় ২৫% ছাড়, কাল থেকে কার্যকর ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি নিহত শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু ১ জুন হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ১৬ শিশুর মৃত্যু অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বন্ধে কঠোর নির্দেশনা থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ হোক, আগামীর অঙ্গীকার

ব্যাংকিং খাতের ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে: গভর্নর

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 24

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন পরিস্থিতিতে আসছি, যখন ব্যাংক খাত থেকে ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে। এ খাতের এক-তৃতীয়াংশ টাকাই নাই, যেটাকে আমরা ‌এনপিএল (খেলাপি ঋণ) বলছি সফিস্টিকেটেড ওয়েতে (মার্জিতভাবে)। চুরি হয়ে যাওয়া এ ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত নাই। এসব অর্থের অধিকাংশই দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে।’

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের চতুর্দশ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন মোস্তাকুর রহমান। এ পদে যোগদানের পর গতকালই প্রথম তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসেন। দেশের অর্থনীতিকে টেনে তোলা, বন্ধ কারখানা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। দেশের অর্থনীতির বিরাজমান পরিস্থিতি, প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার প্রেক্ষাপট ও এর বিস্তারিত বিবরণও তুলে ধরেন গভর্নর।

মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আর্থিক খাত বেশ চাপে আছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গেছে। পাচার হয়ে গেছে বেশকিছু টাকা। আমানতকারীদের আস্থা অনেকখানি কমে গিয়েছিল। আমরা সে আস্থা ফেরানোর কাজ করছি। পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার সময়সাপেক্ষ। তবে অর্থ ফেরত আনাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

খেলাপি হওয়া ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নেই উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘যে ১০০ টাকা নিয়েছে, তার কাছে কিন্তু ১০০ টাকা নেই। আমরা এখন কাজ করছি, এ টাকা কীভাবে আদায় করা যায়।’

ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও রফতানি বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন গভর্নর।

এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের খুব একটা ভালো নয়, এটা সত্যি। তবে আমরা আশাবাদী। এবারের প্যাকেজটি চূড়ান্ত করার আগে আমরা দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ, ব্যবসায়ী নেতা ও ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। টোটাল প্যাকেজটি সেভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে অতীতের মতো খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ব্যাংকিং খাতের ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে: গভর্নর

প্রকাশের সময় : ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন পরিস্থিতিতে আসছি, যখন ব্যাংক খাত থেকে ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে। এ খাতের এক-তৃতীয়াংশ টাকাই নাই, যেটাকে আমরা ‌এনপিএল (খেলাপি ঋণ) বলছি সফিস্টিকেটেড ওয়েতে (মার্জিতভাবে)। চুরি হয়ে যাওয়া এ ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত নাই। এসব অর্থের অধিকাংশই দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে।’

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের চতুর্দশ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন মোস্তাকুর রহমান। এ পদে যোগদানের পর গতকালই প্রথম তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসেন। দেশের অর্থনীতিকে টেনে তোলা, বন্ধ কারখানা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। দেশের অর্থনীতির বিরাজমান পরিস্থিতি, প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার প্রেক্ষাপট ও এর বিস্তারিত বিবরণও তুলে ধরেন গভর্নর।

মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আর্থিক খাত বেশ চাপে আছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গেছে। পাচার হয়ে গেছে বেশকিছু টাকা। আমানতকারীদের আস্থা অনেকখানি কমে গিয়েছিল। আমরা সে আস্থা ফেরানোর কাজ করছি। পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার সময়সাপেক্ষ। তবে অর্থ ফেরত আনাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

খেলাপি হওয়া ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নেই উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘যে ১০০ টাকা নিয়েছে, তার কাছে কিন্তু ১০০ টাকা নেই। আমরা এখন কাজ করছি, এ টাকা কীভাবে আদায় করা যায়।’

ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও রফতানি বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন গভর্নর।

এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের খুব একটা ভালো নয়, এটা সত্যি। তবে আমরা আশাবাদী। এবারের প্যাকেজটি চূড়ান্ত করার আগে আমরা দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ, ব্যবসায়ী নেতা ও ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। টোটাল প্যাকেজটি সেভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে অতীতের মতো খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার।’