যারা গণহত্যা চালিয়েছে, প্রত্যেকের বিচার করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- প্রকাশের সময় : ০৭:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে, প্রত্যেকের বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) চালু আছে, চালু থাকবে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। ইনশাআল্লাহ, প্রত্যেক খুনির বিচার করা হবে।
শনিবার রাজধানীর ধোলাইখালে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে, মানুষের বুকে গুলি চালিয়েছে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই। প্রত্যেকের বিচার করা হবে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে যারা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। যে সরকার বিনা ভোটে দেশ পরিচালনা করেছে এবং গণতন্ত্রকে সিস্টেমেটিক্যালি হত্যা করেছে, তারা পৃথিবীর বুকে একটি লজ্জাজনক ইতিহাস রচনা করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এ দেশের মানুষ সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সেই বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, পতিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত জুম মিটিং করছে এবং নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। তারা বলছে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরুন এবং বিচারের মুখোমুখি হোন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারত সরকার এখনো এর কোনো জবাব দেয়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও তার সহযোগীরা যে দেশে অবস্থান করছেন, সেই দেশের প্রতি তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে তাদের বিচার হয়েছে। প্রয়োজনে তারা আপিলের সুযোগ চাইলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে এবং দেশে ফিরে সুষ্ঠু ন্যায়বিচার সম্পন্ন করা হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এরই মধ্যে যারা সরকার পতনের এক দফার ঘোষণা দিচ্ছেন, তাদের বিষয়েও জনগণকে ভাবতে হবে। বিএনপি ও আন্দোলনের সহযোগীরা বসে বসে তাদের এসব কর্মকাণ্ড দেখবে, এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চায়, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে চায় এবং সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে এ দেশে কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে অংশ না নিয়ে রাস্তায় নেমেছে এবং লং মার্চ করেছে। তারা একবার উত্তরে, আবার দক্ষিণে লং মার্চ করেছে। সামনে পূর্ব ও পশ্চিমেও লংমার্চ করার কথা শোনা যাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কত বেড়েছে, সেটি বলা হচ্ছে না। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ, তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বিএনপির নেতা তারেক রহমান এক মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়াননি। পরে সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার এবং আন্তর্জাতিক দরের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরপরও দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তবে গালফ ওয়ারের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে। এতে জনগণের কিছুটা দুর্ভোগ হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি।






















