Dhaka ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নওগাঁর মান্দায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ তিন চোরাকারবারি আটক তড়িঘড়ি করে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাজবাড়ীতে নিখোঁজ মা-মেয়ের মরদেহ ফরিদপুরে উদ্ধার, মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল কোচিং সেন্টার নিয়ে যে কড়া বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী অপপ্রচারের প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিএনপির লিফলেট বিতরণ আরও চার কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকান পদ্মায় লাফ দিয়েছেন, ধারণা পরিবারের জাবিতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম বিশ্ববিদ্যালয় লেক হতে পারে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে নতুন দৃষ্টান্ত : মৎস্যমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ফিকে হতে চলছে: পীর সাহেব চরমোনাই

রাজবাড়ীতে নিখোঁজ মা-মেয়ের মরদেহ ফরিদপুরে উদ্ধার, মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল

ইমরান খান
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 7

 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচরের চর কর্ণসোনা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া মা ও শিশু কন্যার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের যতীন বৈদ্যের পাড়ায় হাকিম মোল্লা-র পুকুরপাড় থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, পুকুরপাড়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ চাপা দিয়ে তার ওপর কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।

নিহতরা হলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর কর্ণসোনা গ্রামের জাহানা আক্তার এবং তার তিন বছর বয়সী শিশু কন্যা সামিয়া আক্তার। জাহানা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ শেখ-এর স্ত্রী। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা গ্রামের লালন মোল্লা-এর মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে আত্মীয়ের চল্লিশা অনুষ্ঠানে যান জাহানা। অনুষ্ঠান শেষে শিশু কন্যাকে নিয়ে হামেদের হাটে ওষুধ কিনতে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় গোয়ালন্দ থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্বামী।

স্থানীয় গৃহবধূ কুলসুম বেগম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি পুকুরপাড়ে ছাগল চরাতে গিয়ে কয়েকটি কুকুরকে মাটি খুঁড়তে দেখেন। পরে কাছে গিয়ে মাটির নিচে মানুষের পা দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

নিহত জাহানার শ্বশুর আব্দুর রব শেখ জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে থানায় জিডি করা হয়।

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল মোল্লা বলেন, আমজাদ স্থানীয় একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। মাঝে মাঝে জাহানাও সেখানে যেতেন। ওই ইটভাটার উজ্জ্বল নামের এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আগে পারিবারিক বিরোধ হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের স্থানের কাছেই ওই যুবকের বাড়ি হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে নিখোঁজ মা-মেয়ের মরদেহ ফরিদপুরে উদ্ধার, মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল

প্রকাশের সময় : ১০:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচরের চর কর্ণসোনা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া মা ও শিশু কন্যার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের যতীন বৈদ্যের পাড়ায় হাকিম মোল্লা-র পুকুরপাড় থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, পুকুরপাড়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ চাপা দিয়ে তার ওপর কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।

নিহতরা হলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর কর্ণসোনা গ্রামের জাহানা আক্তার এবং তার তিন বছর বয়সী শিশু কন্যা সামিয়া আক্তার। জাহানা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ শেখ-এর স্ত্রী। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা গ্রামের লালন মোল্লা-এর মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে আত্মীয়ের চল্লিশা অনুষ্ঠানে যান জাহানা। অনুষ্ঠান শেষে শিশু কন্যাকে নিয়ে হামেদের হাটে ওষুধ কিনতে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় গোয়ালন্দ থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্বামী।

স্থানীয় গৃহবধূ কুলসুম বেগম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি পুকুরপাড়ে ছাগল চরাতে গিয়ে কয়েকটি কুকুরকে মাটি খুঁড়তে দেখেন। পরে কাছে গিয়ে মাটির নিচে মানুষের পা দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

নিহত জাহানার শ্বশুর আব্দুর রব শেখ জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে থানায় জিডি করা হয়।

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল মোল্লা বলেন, আমজাদ স্থানীয় একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। মাঝে মাঝে জাহানাও সেখানে যেতেন। ওই ইটভাটার উজ্জ্বল নামের এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আগে পারিবারিক বিরোধ হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের স্থানের কাছেই ওই যুবকের বাড়ি হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।