Dhaka ১২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন ভোটার নিবন্ধনে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক করল নির্বাচন কমিশন বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩৭তম বৈঠকে বাজেট অনুমোদন ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার : পেন্টাগন কালীগঞ্জে গণশুনানি অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব সরকারি দলের রাতের মধ্যে ১১ অঞ্চলে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস রূপপুরের ৯০ শতাংশ ঋণই রাশিয়ার, পরিশোধে যতটা সময় পাবে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 5

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে, উন্নয়নশীল দেশগুলো গুরুতর অর্থনৈতিক ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে।

সম্প্রতি আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরামের পার্শ্বে এডিএফ টকসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি বাজারে বর্তমান অস্থিরতা অমীমাংসিত থাকলে, এর পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেলের ধাক্কার চেয়েও বড় ধরনের হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আগের তেলের ধাক্কার পর ১৯৮০-এর দশকে নবীন রাষ্ট্র ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাই না।

মন্ত্রী আরো বলেন, নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তেল, এলপিজি ও সার সরবরাহের ওঠানামার ক্ষেত্রে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে, যেহেতু দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে পরিচালিত আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

নৌপরিবহন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত সমুদ্রপথ খোলা রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সামুদ্রিক রুট দিয়ে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে, তা বাংলাদেশে কৃষি, শিল্প ও গৃহস্থালি জ্বালানি ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, বিশেষ করে বর্তমান রোপন মৌসুমে, যখন ডিজেল ও সারের চাহিদা বেশি, তখন এই প্রভাব পড়তে পারে।

বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি সাশ্রয়, জ্বালানি রেশনিং এবং অফিস ও প্রাতিষ্ঠানিক সময়সূচিতে সমন্বয়সহ বিচক্ষণ পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণকে অতিরিক্ত দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ছিল এবং জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা উদযাপন করেছে।

ড. খলিলুর রহমান আরো বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ডের মতো জনমুখী কর্মসূচি চালু করেছে।

ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে, যেখানে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং একইসাথে সব দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট মানে, বাংলাদেশ একা নয়,’ জানিয়ে তিনি বলেন, এই নীতির ভিত্তি হলো সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পারস্পরিক সম্মান।

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত হলে, জাতিসঙ্ঘে তার দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা, তাকে প্রথম দিন থেকেই দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম করবে।

ড. খলিলুর রহমান আরো জানান, তিনি সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য কাজ করবেন এবং তার কর্মসূচির কেন্দ্রে বৈশ্বিক দক্ষিণ, ছোট রাষ্ট্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উদ্বেগকে রাখবেন।

ড. খলিলুর রহমান আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরামকে সংলাপের একটি মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রশংসা করে জানান, সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাসস

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ১১:০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে, উন্নয়নশীল দেশগুলো গুরুতর অর্থনৈতিক ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে।

সম্প্রতি আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরামের পার্শ্বে এডিএফ টকসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি বাজারে বর্তমান অস্থিরতা অমীমাংসিত থাকলে, এর পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেলের ধাক্কার চেয়েও বড় ধরনের হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আগের তেলের ধাক্কার পর ১৯৮০-এর দশকে নবীন রাষ্ট্র ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাই না।

মন্ত্রী আরো বলেন, নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তেল, এলপিজি ও সার সরবরাহের ওঠানামার ক্ষেত্রে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে, যেহেতু দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে পরিচালিত আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

নৌপরিবহন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত সমুদ্রপথ খোলা রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সামুদ্রিক রুট দিয়ে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে, তা বাংলাদেশে কৃষি, শিল্প ও গৃহস্থালি জ্বালানি ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, বিশেষ করে বর্তমান রোপন মৌসুমে, যখন ডিজেল ও সারের চাহিদা বেশি, তখন এই প্রভাব পড়তে পারে।

বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি সাশ্রয়, জ্বালানি রেশনিং এবং অফিস ও প্রাতিষ্ঠানিক সময়সূচিতে সমন্বয়সহ বিচক্ষণ পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণকে অতিরিক্ত দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ছিল এবং জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা উদযাপন করেছে।

ড. খলিলুর রহমান আরো বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ডের মতো জনমুখী কর্মসূচি চালু করেছে।

ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে, যেখানে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং একইসাথে সব দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট মানে, বাংলাদেশ একা নয়,’ জানিয়ে তিনি বলেন, এই নীতির ভিত্তি হলো সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পারস্পরিক সম্মান।

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত হলে, জাতিসঙ্ঘে তার দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা, তাকে প্রথম দিন থেকেই দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম করবে।

ড. খলিলুর রহমান আরো জানান, তিনি সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য কাজ করবেন এবং তার কর্মসূচির কেন্দ্রে বৈশ্বিক দক্ষিণ, ছোট রাষ্ট্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উদ্বেগকে রাখবেন।

ড. খলিলুর রহমান আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরামকে সংলাপের একটি মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রশংসা করে জানান, সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাসস