Dhaka ০৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রূপপুরের ৯০ শতাংশ ঋণই রাশিয়ার, পরিশোধে যতটা সময় পাবে বাংলাদেশ নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে চাইলে ভিসা আবেদন বাতিল প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের গাড়িতে ধাক্কা, বাসচালক গ্রেপ্তার সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী, গেজেট বৃহস্পতিবার লিটারে ৪ টাকা বাড়ল বোতলজাত তেলের দাম কোটালীপাড়ায় মাদক প্রতিরোধ ও যুব সমাজের সম্পৃক্ততা শীর্ষক সেমিনার সংসদে অসুস্থ বিরোধীদলীয় এমপি বাশার, খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী মৌলিক সুবিধা দেশের সব অংশেই গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর এক সিদ্ধান্তে রক্ষা পাচ্ছে ৩ হাজারের বেশি গাছ আলোচিত স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা: গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

রূপপুরের ৯০ শতাংশ ঋণই রাশিয়ার, পরিশোধে যতটা সময় পাবে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 7

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি অর্থায়ন ও ব্যয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা বাংলাদেশকে ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টরে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। কেন্দ্রটির আয়ুষ্কাল প্রায় ৬০ বছর, যা রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও ৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ কম, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক। পাশাপাশি কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাবে এই কেন্দ্র।

জানা গেছে, পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট পেলেট তৈরি করে তা জ্বালানি রডে সাজানো হয় এবং একাধিক রড মিলে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি তৈরি করা হয়। এসব অ্যাসেম্বলি চুল্লিতে স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি আসে বাংলাদেশে। পরে আরও চালান আনা হয় এবং বিশেষ নিরাপত্তায় রূপপুরে নেওয়া হয়। মোট ১৬৪টি জ্বালানি বান্ডেল আনা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ৩১২টি করে জ্বালানি রড রয়েছে।

প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি স্থাপন করলে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ব্যবহৃত জ্বালানি তেজস্ক্রিয় হওয়ায় তা বিশেষ ব্যবস্থায় রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার নজরদারিতে রাখা হবে।

রি-অ্যাক্টরের কোরে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বসাতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগবে। এরপর ফিজিক্যাল স্টার্টআপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন হবে। ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে এবং পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে মোট সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে, তবে দুই বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করলেই কেন্দ্রটি সচল রাখা সম্ভব হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রূপপুরের ৯০ শতাংশ ঋণই রাশিয়ার, পরিশোধে যতটা সময় পাবে বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি অর্থায়ন ও ব্যয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা বাংলাদেশকে ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টরে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। কেন্দ্রটির আয়ুষ্কাল প্রায় ৬০ বছর, যা রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও ৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ কম, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক। পাশাপাশি কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাবে এই কেন্দ্র।

জানা গেছে, পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট পেলেট তৈরি করে তা জ্বালানি রডে সাজানো হয় এবং একাধিক রড মিলে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি তৈরি করা হয়। এসব অ্যাসেম্বলি চুল্লিতে স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি আসে বাংলাদেশে। পরে আরও চালান আনা হয় এবং বিশেষ নিরাপত্তায় রূপপুরে নেওয়া হয়। মোট ১৬৪টি জ্বালানি বান্ডেল আনা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ৩১২টি করে জ্বালানি রড রয়েছে।

প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি স্থাপন করলে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ব্যবহৃত জ্বালানি তেজস্ক্রিয় হওয়ায় তা বিশেষ ব্যবস্থায় রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার নজরদারিতে রাখা হবে।

রি-অ্যাক্টরের কোরে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বসাতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগবে। এরপর ফিজিক্যাল স্টার্টআপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন হবে। ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে এবং পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে মোট সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে, তবে দুই বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করলেই কেন্দ্রটি সচল রাখা সম্ভব হবে।