Dhaka ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল: তাসনিম জারা কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রশিবিরের স্টুডেন্ট হেল্প ডেস্ক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ঢাকায় আনতেন তারা, অতঃপর… ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা! প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ নকল আইডি ও অ্যাপ্রোনে ঢামেকে ঘোরাঘুরি, আটক তরুণী পোরশায় উদ্ধার হওয়া বিষ্ণুমূর্তি বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে হস্তান্তর সিন্ডিকেটের কাছে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদের অধিবেশন কক্ষে কিছু খাচ্ছিলেন এমপি, ধরে ফেললেন স্পিকার নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য

আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল: তাসনিম জারা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 26

আলোচিত এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানান তাসনিম জারা। তবে কোন দল থেকে তাকে এমপি হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, ‘আজ ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণা হয়েছে। অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করে, সহানুভূতি জানিয়ে লিখেছেন যে আমি সংসদে থাকছি না। আপনাদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনে যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছি। সংসদে গিয়ে মানুষের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনে আমি বলেছিলাম যে সংরক্ষিত নারী আসন পূরণ হওয়া উচিত জনগণের সরাসরি ভোটে, দলীয় মনোনয়নে নয়। এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছি, ক্যাম্পেইন করেছি, আপনাদের স্বাক্ষরও নিয়েছি। এমপি হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর ভিন্ন অবস্থান নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।’

তাসনিম জারা বলেন, ‘আজ যাঁরা সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের নিয়ে আমার এই মন্তব্য নয়। তাঁদের অনেকেই অত্যন্ত যোগ্য মানুষ। আমি তাঁদের সফলতা কামনা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অবস্থানটি সিস্টেম নিয়ে। যিনি জনগণের ভোটে সংসদে যান, তিনি তাঁর ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করেন। প্রয়োজনে দলের বিরুদ্ধেও কথা বলতে পারেন। যিনি দলীয় মনোনয়নে সংসদে যান, তাঁর কোনো নির্বাচনী এলাকা থাকে না, কোনো ভোটার থাকে না। এটি কোনো ব্যক্তির সততার প্রশ্ন নয়, বরং কাঠামোগত দুর্বলতার প্রশ্ন। মানুষ যাঁর কাছে জবাবদিহি করে, শেষ পর্যন্ত তাঁর স্বার্থই রক্ষা পায়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা নারী। তাঁদের প্রতিনিধিত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসা উচিত। সংরক্ষিত আসন যদি থাকতেই হয়, সেগুলোও জনগণের ভোটে নির্ধারিত হোক।’

শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলাম। মাত্র ১৯ দিনের প্রচারে, পোস্টার ছাড়া, মিছিল ছাড়া, নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা মেনে, ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছিলেন। নির্বাচনের দিন যে অনিয়ম হয়েছিল, তার দলিল আমরা রেখেছি। ফলাফলও মেনে নিয়েছি। আমি যদি কখনো সংসদে যাই, আপনাদের ভোটেই যাব। সংসদের বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ করা সম্ভব। আমি সেটাই চালিয়ে যাবো।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল: তাসনিম জারা

প্রকাশের সময় : ১০:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আলোচিত এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানান তাসনিম জারা। তবে কোন দল থেকে তাকে এমপি হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, ‘আজ ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণা হয়েছে। অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করে, সহানুভূতি জানিয়ে লিখেছেন যে আমি সংসদে থাকছি না। আপনাদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনে যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছি। সংসদে গিয়ে মানুষের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনে আমি বলেছিলাম যে সংরক্ষিত নারী আসন পূরণ হওয়া উচিত জনগণের সরাসরি ভোটে, দলীয় মনোনয়নে নয়। এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছি, ক্যাম্পেইন করেছি, আপনাদের স্বাক্ষরও নিয়েছি। এমপি হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর ভিন্ন অবস্থান নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।’

তাসনিম জারা বলেন, ‘আজ যাঁরা সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের নিয়ে আমার এই মন্তব্য নয়। তাঁদের অনেকেই অত্যন্ত যোগ্য মানুষ। আমি তাঁদের সফলতা কামনা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অবস্থানটি সিস্টেম নিয়ে। যিনি জনগণের ভোটে সংসদে যান, তিনি তাঁর ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করেন। প্রয়োজনে দলের বিরুদ্ধেও কথা বলতে পারেন। যিনি দলীয় মনোনয়নে সংসদে যান, তাঁর কোনো নির্বাচনী এলাকা থাকে না, কোনো ভোটার থাকে না। এটি কোনো ব্যক্তির সততার প্রশ্ন নয়, বরং কাঠামোগত দুর্বলতার প্রশ্ন। মানুষ যাঁর কাছে জবাবদিহি করে, শেষ পর্যন্ত তাঁর স্বার্থই রক্ষা পায়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা নারী। তাঁদের প্রতিনিধিত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসা উচিত। সংরক্ষিত আসন যদি থাকতেই হয়, সেগুলোও জনগণের ভোটে নির্ধারিত হোক।’

শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলাম। মাত্র ১৯ দিনের প্রচারে, পোস্টার ছাড়া, মিছিল ছাড়া, নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা মেনে, ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছিলেন। নির্বাচনের দিন যে অনিয়ম হয়েছিল, তার দলিল আমরা রেখেছি। ফলাফলও মেনে নিয়েছি। আমি যদি কখনো সংসদে যাই, আপনাদের ভোটেই যাব। সংসদের বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ করা সম্ভব। আমি সেটাই চালিয়ে যাবো।’