Dhaka ০২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ইরানের সঙ্গে শিগগির শেষ হবে যুদ্ধ, বললেন ট্রাম্প বাংলাদেশের খেলা দেখতে মিরপুর স্টেডিয়ামে জাইমা রহমান দেশে জ্বালানির মজুত ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে : প্রতিমন্ত্রী নওগাঁয় প্লাটিনাম কয়েন বিক্রির নামে প্রতারণা : আন্তঃজেলা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন : টাঙ্গাইল ও শিবগঞ্জে ১৬ বিজিবির নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশংসিত দিল্লিতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে দুই বিমানের সংঘর্ষ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু আজ স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে অস্থায়ী সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শিশুর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, জড়িত সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যা হোয়াইট হাউসে শান্তি সংলাপে বসবে ইসরায়েল-লেবানন : ট্রাম্প

মাত্র ৬ সপ্তাহ চলার মতো জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে ইউরোপের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 5

 

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার জেরে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় গুরুতর হুমকিতে পড়তে যাচ্ছে ইউরোপের বেসামরিক ও বাণিজ্যিক বিমান চলাচল খাত। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোর কাছে যে পরিমাণ জেট ফুয়েলের মজুত আছে, তা দিয়ে বড়জোর আর মাত্র ৬ সপ্তাহ চলা সম্ভব হবে।

ফ্রান্সভিত্তিক স্বায়ত্তশাসিত আন্তঃসরকার সংস্থা দ্য ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ইউরোপের কাছে বর্তমানে জেট ফুয়েলের যে মজুত আছে, তা দিয়ে বড়জোর ৬ সপ্তাহ চলা সম্ভব। যদি আমরা হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে না পারি, তাহলে শিগগিরেই হয়তো এমন সংবাদ আমরা শুনব যে জেট ফুয়েলের অভাবে ইউরোপের ‘অমুক’ শহর থেকে ‘তমুক’ শহরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।”

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বর্তমানে ইউরোপ তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে উল্লেখ করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বিরোল বলেন, “অতীতে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে একটা কথা প্রায়েই বলা হতো। আমরা এখন সেই পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এখনকার পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।”

“বতর্মান অবস্থা যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির জন্য তা ততই খারাপ পরিস্থিতি বয়ে আনবে। সবাই ভোগান্তিতে পড়বে। কিছু দেশ হয়তো অন্যান্য রাষ্ট্রের চেয়ে ধনী, কিছু দেশের হয়তো অন্যান্য দেশের তুলনায় জ্বালানির মজুত বেশি…কিন্তু কোনো দেশ এই সংকটের আঁচ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে ইরান। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুরোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেখানে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। সেখানে বর্তমানে এই প্রণালিতে দৈনিক চলাচল করছে গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজ।

সূত্র : এনডিটিভি

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাত্র ৬ সপ্তাহ চলার মতো জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে ইউরোপের

প্রকাশের সময় : ১১:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার জেরে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় গুরুতর হুমকিতে পড়তে যাচ্ছে ইউরোপের বেসামরিক ও বাণিজ্যিক বিমান চলাচল খাত। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোর কাছে যে পরিমাণ জেট ফুয়েলের মজুত আছে, তা দিয়ে বড়জোর আর মাত্র ৬ সপ্তাহ চলা সম্ভব হবে।

ফ্রান্সভিত্তিক স্বায়ত্তশাসিত আন্তঃসরকার সংস্থা দ্য ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ইউরোপের কাছে বর্তমানে জেট ফুয়েলের যে মজুত আছে, তা দিয়ে বড়জোর ৬ সপ্তাহ চলা সম্ভব। যদি আমরা হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে না পারি, তাহলে শিগগিরেই হয়তো এমন সংবাদ আমরা শুনব যে জেট ফুয়েলের অভাবে ইউরোপের ‘অমুক’ শহর থেকে ‘তমুক’ শহরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।”

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বর্তমানে ইউরোপ তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে উল্লেখ করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বিরোল বলেন, “অতীতে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে একটা কথা প্রায়েই বলা হতো। আমরা এখন সেই পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এখনকার পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।”

“বতর্মান অবস্থা যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির জন্য তা ততই খারাপ পরিস্থিতি বয়ে আনবে। সবাই ভোগান্তিতে পড়বে। কিছু দেশ হয়তো অন্যান্য রাষ্ট্রের চেয়ে ধনী, কিছু দেশের হয়তো অন্যান্য দেশের তুলনায় জ্বালানির মজুত বেশি…কিন্তু কোনো দেশ এই সংকটের আঁচ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে ইরান। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুরোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেখানে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। সেখানে বর্তমানে এই প্রণালিতে দৈনিক চলাচল করছে গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজ।

সূত্র : এনডিটিভি