Dhaka ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মমত্ববোধ দিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নতুন বিমান সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা সোনালী ব্যাংকের জুরাইনে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ উদ্বোধনের আশা সংসদীয় কমিটির মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস কালীগঞ্জে জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী

টিএসসিতে লাঠি হাতে তেড়ে আসা সেই তরুণ গাজীপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 168

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে আসা সেই আলোচিত তরুণের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ওই তরুণের নাম মো. রাকিব। তিনি গাজীপুরের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো. রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুর বাজার এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সফিপুরের ইউনিক টাওয়ারের ছাদে সাব্বিরকে কুপিয়ে ও ছাদ থেকে ফেলে হত্যা মামলার প্রধান আসামি তিনি। একই মামলায় তার যমজ ভাই মো. সাকিবও আসামি।

ওই ঘটনায় নিহত সাব্বিরের বড় ভাই মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছিলেন। মামলার পর থেকে তারা পলাতক থাকলেও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাদের দেখা যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, টিএসসি প্রাঙ্গণে এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে যাচ্ছেন রাকিব। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, হত্যা মামলার আসামি হয়েও কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাকিব, সাকিব ও সাব্বির একসঙ্গে একটি জিমে যান। সেখান থেকে তারা দুই ভাইয়ের বাসা ইউনিক টাওয়ারের ছাদে ওঠেন। সঙ্গে ছিল স্থানীয় দুই কিশোর। পরে দুই কিশোরকে মুড়ি কিনতে দোকানে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে ভবনের নিচে রক্তমাখা অবস্থায় সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ছাদে গিয়ে তার কাটা নখ ও রক্তমাখা অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখেন। ততক্ষণে রাকিব ও সাকিব তাকে কুপিয়ে ও ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহত সাব্বিরের বড় ভাই মহিউদ্দিন আবির বলেন, কালিয়াকৈর থানায় মামলাটি দায়ের করা হলেও পরে তা গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে যায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে চার্জশিট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিভিন্ন সময় দেখা গেলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতারে তৎপরতা দেখাচ্ছে না।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, মামলাটি তদন্ত করেছে ডিবি পুলিশ, তাই গ্রেফতারের দায়িত্বও তাদের। আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে গ্রেফতার করা হবে।

গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসমত উল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে আগে অভিযান চালানো হয়নি। তবে এখন আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

টিএসসিতে লাঠি হাতে তেড়ে আসা সেই তরুণ গাজীপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি

প্রকাশের সময় : ১১:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে আসা সেই আলোচিত তরুণের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ওই তরুণের নাম মো. রাকিব। তিনি গাজীপুরের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো. রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুর বাজার এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সফিপুরের ইউনিক টাওয়ারের ছাদে সাব্বিরকে কুপিয়ে ও ছাদ থেকে ফেলে হত্যা মামলার প্রধান আসামি তিনি। একই মামলায় তার যমজ ভাই মো. সাকিবও আসামি।

ওই ঘটনায় নিহত সাব্বিরের বড় ভাই মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছিলেন। মামলার পর থেকে তারা পলাতক থাকলেও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাদের দেখা যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, টিএসসি প্রাঙ্গণে এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে যাচ্ছেন রাকিব। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, হত্যা মামলার আসামি হয়েও কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাকিব, সাকিব ও সাব্বির একসঙ্গে একটি জিমে যান। সেখান থেকে তারা দুই ভাইয়ের বাসা ইউনিক টাওয়ারের ছাদে ওঠেন। সঙ্গে ছিল স্থানীয় দুই কিশোর। পরে দুই কিশোরকে মুড়ি কিনতে দোকানে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে ভবনের নিচে রক্তমাখা অবস্থায় সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ছাদে গিয়ে তার কাটা নখ ও রক্তমাখা অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখেন। ততক্ষণে রাকিব ও সাকিব তাকে কুপিয়ে ও ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহত সাব্বিরের বড় ভাই মহিউদ্দিন আবির বলেন, কালিয়াকৈর থানায় মামলাটি দায়ের করা হলেও পরে তা গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে যায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে চার্জশিট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিভিন্ন সময় দেখা গেলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতারে তৎপরতা দেখাচ্ছে না।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, মামলাটি তদন্ত করেছে ডিবি পুলিশ, তাই গ্রেফতারের দায়িত্বও তাদের। আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে গ্রেফতার করা হবে।

গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসমত উল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে আগে অভিযান চালানো হয়নি। তবে এখন আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।