Dhaka ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন ৪ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে পোরশায় হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে সিজার, নবজাতকের মৃত্যু : ক্লিনিক মালিকসহ গ্রেপ্তার ৪ ঝিনাইদহে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা কালুখালীর শিকজান বাজারে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে পুলিশের পরামর্শ ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে আ. লীগের সঙ্গে বৈঠক: সারজিসকে বহিষ্কার, হাসনাতকে শোকজ করেন নাহিদ

ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক, তবে অস্বাভাবিক নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 179

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক হলেও, অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; যেসব দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের অনেককেই এই তালিকায় রাখা হয়েছে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় নির্ভরতার প্রবণতা বেশি, তাদের ওপর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সে তালিকায় বাংলাদেশ থাকাটা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় না। অবশ্যই এটি দুঃখজনক ও কষ্টকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া নতুন নয় এবং দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে। এক বছরে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত হলে বর্তমান সরকারের দায় থাকার প্রশ্ন উঠত। তবে যেহেতু এটি দীর্ঘদিনের একটি নীতি, তাই এর দায় আগের সব সরকারের নীতিগত সীমাবদ্ধতার সঙ্গেই যুক্ত।’

অনিয়মিত অভিবাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার প্রথম দিন থেকেই এ প্রবণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই একমাত্র সমাধান। যতদিন এটি বন্ধ করা যাবে না, ততদিন ভূমধ্যসাগরে মানুষের মৃত্যুর খবর আসতেই থাকবে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও ট্যুরিস্ট ভিসায় বিভিন্ন দেশে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা রোধ করা না গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। গত বছরের আগস্টে প্রথমে ছয়টি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। পরে আরও কয়েক দফায় দেশ যুক্ত হয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে যুক্ত হওয়া অধিকাংশ দেশের জন্য এই শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ভিসা বন্ড আরোপ প্রত্যাহারে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টি সদ্য কার্যকর হয়েছে। সরকার প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে এবং বাংলাদেশকে এ সিদ্ধান্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক, তবে অস্বাভাবিক নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক হলেও, অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; যেসব দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের অনেককেই এই তালিকায় রাখা হয়েছে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় নির্ভরতার প্রবণতা বেশি, তাদের ওপর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সে তালিকায় বাংলাদেশ থাকাটা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় না। অবশ্যই এটি দুঃখজনক ও কষ্টকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া নতুন নয় এবং দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে। এক বছরে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত হলে বর্তমান সরকারের দায় থাকার প্রশ্ন উঠত। তবে যেহেতু এটি দীর্ঘদিনের একটি নীতি, তাই এর দায় আগের সব সরকারের নীতিগত সীমাবদ্ধতার সঙ্গেই যুক্ত।’

অনিয়মিত অভিবাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার প্রথম দিন থেকেই এ প্রবণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই একমাত্র সমাধান। যতদিন এটি বন্ধ করা যাবে না, ততদিন ভূমধ্যসাগরে মানুষের মৃত্যুর খবর আসতেই থাকবে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও ট্যুরিস্ট ভিসায় বিভিন্ন দেশে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা রোধ করা না গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। গত বছরের আগস্টে প্রথমে ছয়টি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। পরে আরও কয়েক দফায় দেশ যুক্ত হয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে যুক্ত হওয়া অধিকাংশ দেশের জন্য এই শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ভিসা বন্ড আরোপ প্রত্যাহারে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টি সদ্য কার্যকর হয়েছে। সরকার প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে এবং বাংলাদেশকে এ সিদ্ধান্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’