Dhaka ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, রাষ্ট্রে সবার সমান অধিকার: রিজভী কালীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মাচরণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য: প্রধানমন্ত্রী যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে ৫ সরকারি কর্মচারী গ্রেফতার, উদ্ধার ৪৮ পাতার ব্যাংক চেক পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢালারচর রেলস্টেশন পরিদর্শন, ‘ওরা ১১ জন’-এর নৌকা ভ্রমণ নুর হাসিনার পুত্র হলে আসিফ-নাহিদ-আখতাররা হাসিনার নাতি: আবু হানিফ ক্ষমা চেয়েও শাস্তি এড়াতে পারলেন না মার্তিনেজ কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টের কিট কিনতে বিএনপির আর্থিক সহায়তা প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ফল প্রকাশ পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা তদারকি করবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

রাজবাড়ী -২; লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াতের দুই হারুনের

আশিক হাসান, কালুখালী
  • প্রকাশের সময় : ১২:১৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 150

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ (পাংশা-কালুখালী-বালিয়াকান্দি) আসন এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রে। বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পর এ আসনটিতে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী কৌতূহল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন, তখন রাজবাড়ী-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় হারুন অর-রশীদের নাম।

এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান হলেও শুরু হয়েছে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা-হারুন বনাম হারুন।

অন্যদিকে গত ২৬ মে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজবাড়ী জেলা শাখার এক কর্মপরিষদ সভায় রাজবাড়ী-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় হারুন- অর-রশীদ-এর নাম। এখন দ্বৈত ‘হারুন’ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জমে উঠেছে এ আসনটি। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই মনোনীত প্রার্থীর নাম এক হলেও পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা।বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর-রশীদ। তিনি পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা। বিগত দিনে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক, যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখা, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া এবং ইউনিয়ন-উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কমিটি
পুনর্গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয় নেতাদের দাবি।

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে যোগাযোগ ও ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য কাজ শুরু করেছেন। রাজবাড়ী-২ আসনে দল তাঁকে মনোনীত করলেও দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে নেতাকর্মীদের মিষ্টিমুখ, মিছিল ও আনন্দ উল্লাস থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. হারুন-অর- রশীদ। তিনি রাজবাড়ী জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি এবং দীর্ঘদিন পাংশা উপজেলা আমির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর বাড়ি পাংশা পৌরসভার মাগুড়াডাঙ্গী গ্রামে। ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের ওপর ভরসা করে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।এছাড়াও এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি,গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

ফলে বহুদলীয় প্রতিযোগিতা হলেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের ‘হারুন বনাম হারুন’- এর মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে স্থানীয়রা মনে করেন। রাজবাড়ী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৯২ হাজার ৮৫২ জন পুরুষ ভোটার, ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৯৪ জন নারী ভোটার এবং ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির সক্রিয় ভোটব্যাংক থাকলেও জামায়াতের নীরব সাংগঠনিক প্রভাবও রয়েছে। দুই দলের প্রার্থী নামের মিল থাকায় ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে-শেষ পর্যন্ত (হারুন বনাম হারুন) কে জয়ী হন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ী -২; লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াতের দুই হারুনের

প্রকাশের সময় : ১২:১৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ (পাংশা-কালুখালী-বালিয়াকান্দি) আসন এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রে। বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পর এ আসনটিতে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী কৌতূহল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন, তখন রাজবাড়ী-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় হারুন অর-রশীদের নাম।

এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান হলেও শুরু হয়েছে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা-হারুন বনাম হারুন।

অন্যদিকে গত ২৬ মে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজবাড়ী জেলা শাখার এক কর্মপরিষদ সভায় রাজবাড়ী-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় হারুন- অর-রশীদ-এর নাম। এখন দ্বৈত ‘হারুন’ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জমে উঠেছে এ আসনটি। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই মনোনীত প্রার্থীর নাম এক হলেও পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা।বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর-রশীদ। তিনি পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা। বিগত দিনে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক, যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখা, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া এবং ইউনিয়ন-উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কমিটি
পুনর্গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয় নেতাদের দাবি।

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে যোগাযোগ ও ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য কাজ শুরু করেছেন। রাজবাড়ী-২ আসনে দল তাঁকে মনোনীত করলেও দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে নেতাকর্মীদের মিষ্টিমুখ, মিছিল ও আনন্দ উল্লাস থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. হারুন-অর- রশীদ। তিনি রাজবাড়ী জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি এবং দীর্ঘদিন পাংশা উপজেলা আমির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর বাড়ি পাংশা পৌরসভার মাগুড়াডাঙ্গী গ্রামে। ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের ওপর ভরসা করে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।এছাড়াও এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি,গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

ফলে বহুদলীয় প্রতিযোগিতা হলেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের ‘হারুন বনাম হারুন’- এর মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে স্থানীয়রা মনে করেন। রাজবাড়ী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৯২ হাজার ৮৫২ জন পুরুষ ভোটার, ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৯৪ জন নারী ভোটার এবং ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির সক্রিয় ভোটব্যাংক থাকলেও জামায়াতের নীরব সাংগঠনিক প্রভাবও রয়েছে। দুই দলের প্রার্থী নামের মিল থাকায় ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে-শেষ পর্যন্ত (হারুন বনাম হারুন) কে জয়ী হন সেটিই এখন দেখার বিষয়।