পাকিস্তানে টিটিপির হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত

- প্রকাশের সময় : ০৯:৪৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
- / 44
পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তারা প্রায় দেড় বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন। নিহতদের একজন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রতন ঢালী (২৯) এবং অন্যজনের নাম ফয়সাল হোসেন (২২), তবে তার ঠিকানা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (সিটিটিআই) ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার রওশন সাদিয়া আফরোজ।
তিনি বলেন, “আমরা শতভাগ নিশ্চিত হয়েছি রতন ঢালী টিটিপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানে যুদ্ধ করেছিলেন।”
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রতন ও ফয়সাল ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে তারা অবৈধভাবে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে পৌঁছে টিটিপিতে যোগ দেন।
রতন ঢালী ঢাকার খিলগাঁওয়ের একটি মেডিকেল সেন্টারে কাজ করতেন। তার বাবা আনোয়ার ঢালী একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক এবং মা সেলিনা বেগম গৃহিণী। পরিবারের সঙ্গে শেষবার রতন যোগাযোগ করেন ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল রোজার ঈদে। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতে আছেন এবং শিগগিরই দুবাই যাচ্ছেন। এরপর থেকেই তার খোঁজ মেলেনি।
রতনের বাবা আনোয়ার ঢালী বলেন, “রতন গ্রামের বাড়ি থেকে সব কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিল। বলেছিল, দুবাই যেতে এগুলো দরকার হবে। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ পাইনি।”
তিনি আরও জানান, রতন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরে মোবাইল সার্ভিসিং শিখে কাজ শুরু করেন।
সিটিটিসি ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে টিটিপির এক অভিযানে ৫৪ যোদ্ধা নিহত হন। এরপর নিহতদের পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে রতন ঢালী ও ফয়সালের নাম শনাক্ত করা হয়। নিহতদের মধ্যে সাভারের আরেক যুবক আহমেদ জুবায়েরও ছিলেন।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, রতন ও ফয়সাল শুধু টিটিপিতে যোগ দেননি, বরং বাংলাদেশের যুবকদের বিদেশে জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত হওয়ার প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের প্রতি সতর্কতা জারি করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে তাদের এলাকায়। একই সঙ্গে যুব সমাজকে বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের প্রলোভন থেকে বিরত রাখতে বিশেষ সচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।





















