Dhaka ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর; সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / 35

শেরপুরের নকলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুম তার নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের কৃষি প্রণোদনার তালিকায় নাম না দেওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। এতে রাহাত হাসানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার শেরপুরের নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহারিয়ার মুরসালিন মেহেদীকে তার অফিস কক্ষে মারধর ও হেনস্তা করেন রাহাত হাসান কাইয়ুম। যার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এদিকে ঘটনার দিন রাতেই নকলা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ছাত্রদল নেতা রাহাত হাসান কাইয়ুম ও সহযোগী ফজলুকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাহাত হাসান কাইয়ুম নকলা পৌরসভার ধুকুরিয়া গ্রামের সুরুজ মাওলা এবং ফজলু একই গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে।

জানা যায়, বুধবার বেলা সোয়া ২টার দিকে রাহাত ও ফজলু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে জানতে চান, কৃষি কর্মকর্তা কেন এখনো বদলি হচ্ছেন না? কারা কৃষি প্রণোদনা পেয়েছেন এবং নেতাদের ভাগ কত? এরপর তারা ছাত্রদলের ভাগ দাবি করেন।

এ সময় কৃষি কর্মকর্তা জানান, সরকারি প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের জন্য। রাজনৈতিকভাবে কারও ভাগ দেওয়ার সুযোগ নেই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

কৃষি কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলমকে জানালে রাহাত আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সহযোগী ফজলুকে নিয়ে অফিসের ভেতরেই কর্মকর্তাকে মারধর শুরু করেন।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানিয়েছেন, কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় নিয়মিত মামলা গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর; সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

শেরপুরের নকলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুম তার নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের কৃষি প্রণোদনার তালিকায় নাম না দেওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। এতে রাহাত হাসানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার শেরপুরের নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহারিয়ার মুরসালিন মেহেদীকে তার অফিস কক্ষে মারধর ও হেনস্তা করেন রাহাত হাসান কাইয়ুম। যার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এদিকে ঘটনার দিন রাতেই নকলা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ছাত্রদল নেতা রাহাত হাসান কাইয়ুম ও সহযোগী ফজলুকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাহাত হাসান কাইয়ুম নকলা পৌরসভার ধুকুরিয়া গ্রামের সুরুজ মাওলা এবং ফজলু একই গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে।

জানা যায়, বুধবার বেলা সোয়া ২টার দিকে রাহাত ও ফজলু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে জানতে চান, কৃষি কর্মকর্তা কেন এখনো বদলি হচ্ছেন না? কারা কৃষি প্রণোদনা পেয়েছেন এবং নেতাদের ভাগ কত? এরপর তারা ছাত্রদলের ভাগ দাবি করেন।

এ সময় কৃষি কর্মকর্তা জানান, সরকারি প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের জন্য। রাজনৈতিকভাবে কারও ভাগ দেওয়ার সুযোগ নেই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

কৃষি কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলমকে জানালে রাহাত আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সহযোগী ফজলুকে নিয়ে অফিসের ভেতরেই কর্মকর্তাকে মারধর শুরু করেন।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানিয়েছেন, কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় নিয়মিত মামলা গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।