যে গ্রামে স্বামীদেরকে আর্সেনিক খাইয়ে হত্যা করেছিল স্ত্রীরা
- প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 90
হাঙ্গেরির ছোট শহর সলনোকের নাগিরেভ গ্রামে ১৯১১ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে এক ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছিল, যা আজও ইতিহাসের পাতায় এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায় হিসেবে বিদ্যমান। স্থানীয় নারীরা তাদের স্বামীদের খাবারে আর্সেনিক বিষ মিশিয়ে হত্যা করতেন।
১৯২৯ সালের ডিসেম্বরে হাঙ্গেরির একটি আদালতে শুরু হয় চাঞ্চল্যকর বিচার, যেখানে প্রায় ৫০ জন নারী বিচারকের মুখোমুখি হন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯১১ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে নাগিরেভ গ্রামে ৫০ জনের বেশি পুরুষ আর্সেনিক খাইয়ে মারা গেছেন। এই নারীদের পরে ‘এঞ্জেল মেকার’ নামে পরিচিতি দেওয়া হয়, যার অর্থ ‘পরলোকে পাঠানো’।
বিচারের সময় ঝুঝানা ফাজেকাশ নামে এক নারী বারবার উঠে আসেন। তিনি ছিলেন গ্রামের ধাত্রী এবং চিকিৎসা ও রাসায়নিক বিষয়ে পারদর্শী হওয়ায় কার্যত স্থানীয় চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করতেন। স্থানীয় নারীরা তার কাছে তাদের স্বামীর নির্যাতন ও অবিশ্বাসের কথা জানাতেন। ফাজেকাশ সমাধান হিসেবে আর্সেনিক ব্যবহার করতেন এবং নিজেই তা প্রস্তুত করতেন। পরে তার বাড়ির বাগান থেকে বিষের শিশি উদ্ধার করা হয়।
নাগিরেভ গ্রামে মেয়েদের বয়সে বড় পুরুষদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হতো। ওই সময়ের জমি, উত্তরাধিকার ও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে বিবাহবিচ্ছেদ প্রায় অসম্ভব ছিল। ১৯১১ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে গ্রামের কবরস্থানে ৫০ জনের বেশি পুরুষ সমাহিত হয়। মরদেহ উত্তোলনের পর ৪৬টি দেহে আর্সেনিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
পুলিশ ফাজেকাশকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি নিজের কাছে রাখা বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন। ১৯২৯ সাল থেকে সলনোকের আদালতে ২৬ জন নারী বিচারকের মুখোমুখি হন; তাদের মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
স্বামী হত্যার পেছনে বিভিন্ন কারণের তত্ত্ব রয়েছে—দারিদ্র্য, লোভ, একঘেঁয়েমি এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রুশ যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে সম্পর্ক। স্বামীরা ফিরে এসে কঠোর আচরণ শুরু করলে নারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আর্সেনিক প্রয়োগ করতেন।
নাগিরেভ ছাড়াও কাছের টিজাকুর্ট শহর থেকেও মৃতদেহ উত্তোলনের পর আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ধারণা করা হয়, পুরো অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে।
আজ নাগিরেভের ভয়ংকর ইতিহাস অনেকটাই বিস্মৃত। তবে গবেষক মারিয়া গুনিয়া উল্লেখ করেছেন, এই ঘটনায় পরবর্তী সময়ে পুরুষদের স্ত্রীদের প্রতি আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।





















