Dhaka ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত, দেশে ৫ হাজারের বেশি সাইট ডাউন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • / 77

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে টেলিযোগাযোগ খাতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে টেলিকম সাইটগুলো অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৫ হাজারের বেশি মোবাইল সাইট ডাউন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

শুক্রবার (৩০ মে) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই তথ্য জানান। তিনি লিখেছেন, “নিম্নচাপজনিত ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত হয়েছে। নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারে পল্লী বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে টেলিকম সাইটগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরিশাল, সিলেট দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা উত্তর, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চল এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিপর্যয়ের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ জানান, মোট মেইনস বিকল হয়েছে ৮,২৬২টি (৪৪ শতাংশ), বর্তমানে চালু সাইট রয়েছে ৬৪.২ শতাংশ, আর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া সাইটের সংখ্যা ৫,৯০৪টি (৩৫.৮ শতাংশ)। বিদ্যুৎ ব্যাকআপের জন্য ৬২৪টি পোর্টেবল জেনারেটর ইতোমধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং আরও ৫০৪টি পথে রয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে স্থলভাগে উঠে এসে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বৃহস্পতিবার রাতেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্য দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে সাতক্ষীরা এলাকায় প্রবেশ করেছে। বর্তমানে এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ শুক্রবার দেশের পাঁচটি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া শনিবারও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্যোগকালীন এই সময়ে সাধারণ জনগণকে সতর্ক ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত, দেশে ৫ হাজারের বেশি সাইট ডাউন

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে টেলিযোগাযোগ খাতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে টেলিকম সাইটগুলো অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৫ হাজারের বেশি মোবাইল সাইট ডাউন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

শুক্রবার (৩০ মে) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই তথ্য জানান। তিনি লিখেছেন, “নিম্নচাপজনিত ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত হয়েছে। নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারে পল্লী বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে টেলিকম সাইটগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরিশাল, সিলেট দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা উত্তর, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চল এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিপর্যয়ের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ জানান, মোট মেইনস বিকল হয়েছে ৮,২৬২টি (৪৪ শতাংশ), বর্তমানে চালু সাইট রয়েছে ৬৪.২ শতাংশ, আর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া সাইটের সংখ্যা ৫,৯০৪টি (৩৫.৮ শতাংশ)। বিদ্যুৎ ব্যাকআপের জন্য ৬২৪টি পোর্টেবল জেনারেটর ইতোমধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং আরও ৫০৪টি পথে রয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে স্থলভাগে উঠে এসে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বৃহস্পতিবার রাতেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্য দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে সাতক্ষীরা এলাকায় প্রবেশ করেছে। বর্তমানে এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ শুক্রবার দেশের পাঁচটি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া শনিবারও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্যোগকালীন এই সময়ে সাধারণ জনগণকে সতর্ক ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।