Dhaka ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশকে প্রস্তুত করা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কালীগঞ্জে কোলা ইউনিয়ন বিএনপির মানবিক উদ্যোগ রূপপুর প্রকল্পে প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি টিকটকে যুক্ত হলো নতুন দুই সুবিধা পাঁচ ঘণ্টা প্ল্যাঙ্ক করে বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন ৬১ বছরের নারী শূন্য থেকে শিখরে: কত সম্পদ রেখে গেলেন নানা পাটেকার জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন ৩০ জানুয়ারি, নিবন্ধন শুরু ১৫ অক্টোবর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় রমজানে পণ্যের সংকট হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাতপাতালে ভর্তি ১৯৩৫

প্রেমের ঘটনার জের ধরে মেয়ে পক্ষের হামলায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 209

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমের ঘটনার জের ধরে মেয়ে পক্ষের স্বজনদের হামলায় মো. আতিক (১৭) নামে আহত এক স্কুলছাত্রের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। আতিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আতিক চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সোনাকাটিয়া আর্দশ গ্রামের আবদুল মান্নান মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় চৌদ্দগ্রাম সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্কুলছাত্র আতিকের সহপাঠি মো. সজিব। সজিবের সাথে একই এলাকার সৌদি প্রবাসী মো. নেয়ামত উল্যাহ মেয়ে নাজনিন সুলতানা নাদিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে গত বছরের ১৩ অক্টোবর পালিয়ে বিয়ে করেন তারা। মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অপহরণের অভিযোগ এনে নাদিয়ার মা নাজমা বেগম চৌদ্দগ্রাম থানায় সজিবসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর কয়েকদিন পর পুলিশ নাদিয়াকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে তার পরিবারের জিম্মায় দেয়। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এর জের ধরে সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নাদিয়ার বাবা নেয়ামত উল্যার নেতৃত্বে ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আতিককে সোনাকাটিয়া এলাকায় পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আতিককে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে আইসিইউতে সিট না পেয়ে তার স্বজনরা একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে তার মৃত্যু হয়।

আতিকের মৃত্যুর খবর জানতে পারার পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে নাদিয়াদের বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের বাবা আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, আমার গ্রামের একটি প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাদিয়ার বাবা নেয়ামত উল্যার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে অন্যায় ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে সোমবার রাতে আতিক নামে এক স্কুলছাত্রকে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে আহত করে বলে জানতে পেরেছি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে ঢাকায় মারা গিয়েছে ওই স্কুলছাত্র। এই সংবাদে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

প্রেমের ঘটনার জের ধরে মেয়ে পক্ষের হামলায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমের ঘটনার জের ধরে মেয়ে পক্ষের স্বজনদের হামলায় মো. আতিক (১৭) নামে আহত এক স্কুলছাত্রের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। আতিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আতিক চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সোনাকাটিয়া আর্দশ গ্রামের আবদুল মান্নান মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় চৌদ্দগ্রাম সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্কুলছাত্র আতিকের সহপাঠি মো. সজিব। সজিবের সাথে একই এলাকার সৌদি প্রবাসী মো. নেয়ামত উল্যাহ মেয়ে নাজনিন সুলতানা নাদিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে গত বছরের ১৩ অক্টোবর পালিয়ে বিয়ে করেন তারা। মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অপহরণের অভিযোগ এনে নাদিয়ার মা নাজমা বেগম চৌদ্দগ্রাম থানায় সজিবসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর কয়েকদিন পর পুলিশ নাদিয়াকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে তার পরিবারের জিম্মায় দেয়। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এর জের ধরে সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নাদিয়ার বাবা নেয়ামত উল্যার নেতৃত্বে ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আতিককে সোনাকাটিয়া এলাকায় পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আতিককে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে আইসিইউতে সিট না পেয়ে তার স্বজনরা একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে তার মৃত্যু হয়।

আতিকের মৃত্যুর খবর জানতে পারার পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে নাদিয়াদের বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের বাবা আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, আমার গ্রামের একটি প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাদিয়ার বাবা নেয়ামত উল্যার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে অন্যায় ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে সোমবার রাতে আতিক নামে এক স্কুলছাত্রকে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে আহত করে বলে জানতে পেরেছি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে ঢাকায় মারা গিয়েছে ওই স্কুলছাত্র। এই সংবাদে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।