Dhaka ০১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ নভেম্বর ২০২১
  • / 239

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিকেলে দলীয় কার্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন রাজবাড়ী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  কাজী ইরাদত আলী, সাবেক পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হেদায়েত আলী সোহরাব, অ্যড. শফিকুল আযম  মামুন, অ্যড. রফিকুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি প্রমুখ।  অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অ্যড. সফিকুল হোসেন।

আলোচনা শেষে জাতীয় চার নেতা  স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি অবস্থায় নিহত হন মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে বঙ্গবন্ধু হত্যার চক্রান্তকারীদের পাঠানো ঘাতকরাই কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের হত্যা করে। কারাগারে অবস্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার এমন ঘটনা বিরল । এর পর থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জেল হত্যাকাণ্ডের পরপর লালবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এর পর দীর্ঘ ৮ বছরের বেশি সময় বিচারকাজ চলার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিনজনের মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ নভেম্বর ২০২১

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিকেলে দলীয় কার্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন রাজবাড়ী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  কাজী ইরাদত আলী, সাবেক পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হেদায়েত আলী সোহরাব, অ্যড. শফিকুল আযম  মামুন, অ্যড. রফিকুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি প্রমুখ।  অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অ্যড. সফিকুল হোসেন।

আলোচনা শেষে জাতীয় চার নেতা  স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি অবস্থায় নিহত হন মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে বঙ্গবন্ধু হত্যার চক্রান্তকারীদের পাঠানো ঘাতকরাই কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের হত্যা করে। কারাগারে অবস্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার এমন ঘটনা বিরল । এর পর থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জেল হত্যাকাণ্ডের পরপর লালবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এর পর দীর্ঘ ৮ বছরের বেশি সময় বিচারকাজ চলার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিনজনের মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়।