Dhaka ০২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গোয়ালন্দে মরা পদ্মার বদ্ধকোল অবৈধ দখল চেষ্টার অভিযোগ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০
  • / ১৩৪০ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ী গোয়ালন্দে মরা পদ্মা নদীর বিশাল জলাশয় অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। বিশাল জলাশয়ের মধ্যে মাত্র বিশ একর জায়গার জলমহাল ইজারা নিয়ে অন্তত ১৫ কিলোমিটারের জলাশয় দখলের পাঁয়তারা করছে প্রভাবশালী ওই মহলটি। তবে জলাশয়টি উন্মুক্ত রাখার দাবীতে স্থানীয় শতশত জেলে ও এলাকাবাসী সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ক্যানেল ঘাট থেকে উজানচর ইউনিয়নের কামারডাঙ্গী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিশাল আয়তনের বদ্ধকোলটি এলাকার মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত। এ কোলোর মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল এলাকার শতশত জেলে পরিবার। বিশাল এ কোলটির অনেক এলাকা শুস্ক মৌসুমে জেগে ওঠে। কোলের বুকে নানা ধরনের ফসলের চাষাবাদ হয়। কোলের বেশীরভাগ জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং তার নিয়মিত খাজনা পরিষদ করেন। এই জলাশয়ের কিছু অংশ সরকারী খাস খতিয়ানভূক্ত রয়েছে। এরমধ্যে ২০ একর এলাকা সরকারী ভাবে জলমহাল ঘোষণা করে লিজ দেয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, লিজ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কথিত মাছ চাষের নামে কোলে রাম রাজত্ব কায়েম করে। সামন্য এলাকা লিজ নিয়ে পুরো ১৫ কিলোমিটার এলাকায় জেলেদের মাছ ধরা, গরু ছাগল গোসল করানো এমনকি কৃষি কাজের জন্য সাধারন কৃষকদেরও কোলে ঢুকতে বাধা প্রদান করে থাকে। তাদের কথা না শুনলে অনেককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠলে রাজবাড়ী -১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী ২০১৪ সালে উজানচরের নতুন ব্রীজ এলাকায় এক জনসভায় কোলটির কোন অংশই লীজ প্রদান না করে পুরোটা অবমুক্ত রাখার ঘোষনা করেন।

এদিকে এমপির ঘোষনার পর প্রশাসন আর লীজ না দিয়ায় দীর্ঘ্যদিন ধরে কোলটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিলো। সেখানে মাছ ধরে ও ফসলের চাষাবাদ করে আসছিল স্থানীয়রা। কিন্তু সম্প্রতি নজরুল মোল্লা নামের একব্যক্তি কোল এলাকায় সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা এবং মাছ ধরতে চাইলে তার সাথে যোগাযোগ করার কথা বলে এলাকায় মাইকিং করেন। এরপর থেকে এলাকার সাধারন বাসিন্দা ও জেলেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন উজানচর নতুন ব্রীজ এলাকায় গেলে সেখানে বহু জেলে তাদের মৎস্যজীবি তালিকাভূক্ত কার্ড দেখিয়ে বলেন, আমার সরকারী তালিকাভূক্ত প্রকৃত জেলে। আমরা এ বদ্ধ জলাশয়ে সরকারের “জাল যার, জলা তার” নীতির পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আঃ রহিম বিডিআর (অবঃ), কৃষক গোপাল চন্দ্র রায়, ইউপি সদস্য নিখিল চন্দ্র রায়, জেলে আঃ জব্বার, আইজদ্দিন মোল্লা, বিল্লাল খানসহ অনেকেই বলেন, এই কোলে শতশত জেলে ও কৃষক মাছ ধরে ও ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। লিজের নামে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অতিতে তাদের শোষন ও নির্যাতন করেছে। এমপি সাহেবের ঘোষনার পর দীর্ঘ্যদিন ধরে ওই প্রভাবশালী চক্রটি নিরব রয়েছে। কিন্তু আবারো তারা কোলের দখল নিতে পায়তারা করছে। কিন্তু আমরা কোনভাবেই কোলের অপদখল মেনে নেব না।

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকীর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল জানান, নতুন করে বদ্ধকোলের লিজের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। প্রশাসন এমন কোন উদ্যোগ নিয়ে সেটা অবশ্যই আমাদের জানার কথা। তবে অন্যায়ভাবে কেউ কোলের দখল নেয়ার চেষ্টা করলে বা জনস্বার্থ বাঁধাগ্রস্থ আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করব।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার বিশাল ওই বদ্ধ কোলটি স্থানীয় জেলেদের মৎস্য আহরনের একটি গুরুত্বপূর্ন জল মহল। এটি লিজ দেয়া হয়েছে কি না আমার জানা নাই। তবে স্থানীয় মৎস্য জীবিদের জীবিকার জন্য কোলটি উন্মুক্ত থাকলেই ভাল হয়।

এ প্রসংগে গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সরকারী ভাবে জলমহাল ঘোষিত উজানচর ইউনিয়নের ২০ একরের জলাশয়টি দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চ ঘাট মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: এর সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলামের নামে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। তবে ওই লীজ বলে মাইকিং করে পুরো জলাশয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া মাইকিংয়ের ব্যপারে লীজ গ্রহনকারী তাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগও করেননি।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ওই লীজকৃত জায়গার বাইরে লীজ গ্রহনকারীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এ নিয়ে যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে লীজ গ্রহনকারী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গোয়ালন্দে মরা পদ্মার বদ্ধকোল অবৈধ দখল চেষ্টার অভিযোগ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে

প্রকাশের সময় : ০৮:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ী গোয়ালন্দে মরা পদ্মা নদীর বিশাল জলাশয় অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। বিশাল জলাশয়ের মধ্যে মাত্র বিশ একর জায়গার জলমহাল ইজারা নিয়ে অন্তত ১৫ কিলোমিটারের জলাশয় দখলের পাঁয়তারা করছে প্রভাবশালী ওই মহলটি। তবে জলাশয়টি উন্মুক্ত রাখার দাবীতে স্থানীয় শতশত জেলে ও এলাকাবাসী সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ক্যানেল ঘাট থেকে উজানচর ইউনিয়নের কামারডাঙ্গী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিশাল আয়তনের বদ্ধকোলটি এলাকার মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত। এ কোলোর মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল এলাকার শতশত জেলে পরিবার। বিশাল এ কোলটির অনেক এলাকা শুস্ক মৌসুমে জেগে ওঠে। কোলের বুকে নানা ধরনের ফসলের চাষাবাদ হয়। কোলের বেশীরভাগ জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং তার নিয়মিত খাজনা পরিষদ করেন। এই জলাশয়ের কিছু অংশ সরকারী খাস খতিয়ানভূক্ত রয়েছে। এরমধ্যে ২০ একর এলাকা সরকারী ভাবে জলমহাল ঘোষণা করে লিজ দেয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, লিজ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কথিত মাছ চাষের নামে কোলে রাম রাজত্ব কায়েম করে। সামন্য এলাকা লিজ নিয়ে পুরো ১৫ কিলোমিটার এলাকায় জেলেদের মাছ ধরা, গরু ছাগল গোসল করানো এমনকি কৃষি কাজের জন্য সাধারন কৃষকদেরও কোলে ঢুকতে বাধা প্রদান করে থাকে। তাদের কথা না শুনলে অনেককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠলে রাজবাড়ী -১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী ২০১৪ সালে উজানচরের নতুন ব্রীজ এলাকায় এক জনসভায় কোলটির কোন অংশই লীজ প্রদান না করে পুরোটা অবমুক্ত রাখার ঘোষনা করেন।

এদিকে এমপির ঘোষনার পর প্রশাসন আর লীজ না দিয়ায় দীর্ঘ্যদিন ধরে কোলটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিলো। সেখানে মাছ ধরে ও ফসলের চাষাবাদ করে আসছিল স্থানীয়রা। কিন্তু সম্প্রতি নজরুল মোল্লা নামের একব্যক্তি কোল এলাকায় সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা এবং মাছ ধরতে চাইলে তার সাথে যোগাযোগ করার কথা বলে এলাকায় মাইকিং করেন। এরপর থেকে এলাকার সাধারন বাসিন্দা ও জেলেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন উজানচর নতুন ব্রীজ এলাকায় গেলে সেখানে বহু জেলে তাদের মৎস্যজীবি তালিকাভূক্ত কার্ড দেখিয়ে বলেন, আমার সরকারী তালিকাভূক্ত প্রকৃত জেলে। আমরা এ বদ্ধ জলাশয়ে সরকারের “জাল যার, জলা তার” নীতির পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আঃ রহিম বিডিআর (অবঃ), কৃষক গোপাল চন্দ্র রায়, ইউপি সদস্য নিখিল চন্দ্র রায়, জেলে আঃ জব্বার, আইজদ্দিন মোল্লা, বিল্লাল খানসহ অনেকেই বলেন, এই কোলে শতশত জেলে ও কৃষক মাছ ধরে ও ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। লিজের নামে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অতিতে তাদের শোষন ও নির্যাতন করেছে। এমপি সাহেবের ঘোষনার পর দীর্ঘ্যদিন ধরে ওই প্রভাবশালী চক্রটি নিরব রয়েছে। কিন্তু আবারো তারা কোলের দখল নিতে পায়তারা করছে। কিন্তু আমরা কোনভাবেই কোলের অপদখল মেনে নেব না।

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকীর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল জানান, নতুন করে বদ্ধকোলের লিজের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। প্রশাসন এমন কোন উদ্যোগ নিয়ে সেটা অবশ্যই আমাদের জানার কথা। তবে অন্যায়ভাবে কেউ কোলের দখল নেয়ার চেষ্টা করলে বা জনস্বার্থ বাঁধাগ্রস্থ আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করব।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার বিশাল ওই বদ্ধ কোলটি স্থানীয় জেলেদের মৎস্য আহরনের একটি গুরুত্বপূর্ন জল মহল। এটি লিজ দেয়া হয়েছে কি না আমার জানা নাই। তবে স্থানীয় মৎস্য জীবিদের জীবিকার জন্য কোলটি উন্মুক্ত থাকলেই ভাল হয়।

এ প্রসংগে গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সরকারী ভাবে জলমহাল ঘোষিত উজানচর ইউনিয়নের ২০ একরের জলাশয়টি দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চ ঘাট মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: এর সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলামের নামে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। তবে ওই লীজ বলে মাইকিং করে পুরো জলাশয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া মাইকিংয়ের ব্যপারে লীজ গ্রহনকারী তাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগও করেননি।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ওই লীজকৃত জায়গার বাইরে লীজ গ্রহনকারীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এ নিয়ে যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে লীজ গ্রহনকারী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলা হবে।