Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সৌদি আরবে এ বছর ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অপরাধী যত ক্ষমতাশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না: আইজিপি নওগাঁয় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ১৬০ বোতল কফ সিরাপ জব্দ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই এই দেশের সন্তান: প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের আমির মাঝেমধ্যে আউল-ফাউল বক্তব্য দিচ্ছেন: রাশেদ খাঁন নানা ছদ্মবেশে অপরাধের খবর সংগ্রহ করতেন নিহত সাংবাদিক আলিফ ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা গ্রেফতার দুর্গাপূজায় মেট্রোরেলের বিশেষ সূচি, শুক্রবার চলবে বিকেল থেকে ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কে এই মেহেরদাদ আখলাঘি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সৌদি থেকে দুই বাংলাদেশির মরদেহ আনা হবে

রাজবাড়ীতে নিদারুন কষ্টে কিন্ডার গার্টেন পরিচালক শিক্ষক শিক্ষিকরা

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০
  • / 638

জনতার আদালত অনলাইন ॥ করোনা সংক্রমণে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দুঃসহ সময় অতিক্রম করছেন রাজবাড়ীর কিন্ডার গার্টেন পরিচালক ও শিক্ষক শিক্ষিকারা। কোনো আয় না থাকলেও প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিচালকদের ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষক শিক্ষিকরা।

জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলায়  কিন্ডার গার্টেন রয়েছে ১৭০টি। যার বেশির ভাগই ঘর বা ফ্ল্যাট ভাড়া  নিয়ে  চালানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। রয়েছেন আয়া ও  পিয়নও। যাদের  অনেকের পরিবার কিন্ডার থেকে প্রাপ্ত বেতনের উপর নির্ভরশীল। সরকারি কোনো প্রণোদনা না থাকায় ছাত্রÑছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন নিয়ে কিন্ডারগার্টেনগুলোর ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় কিন্ডার গার্টেন বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন নিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের পথ। কিন্তু তাদের বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

রাজবাড়ীর বেড়াডাঙ্গায় অবস্থিত শিশু রাজ্য কিন্ডার গার্টেন। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংখ্যা ১০ জন। যারা দীর্ঘ চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। শিশু রাজ্যের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ জানান, শিক্ষকদের বেতন ছাড়াই প্রতি মাসে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য খরচ ৪০ হাজার টাকা। কিন্ডার গার্টেন বন্ধ থাকায় তাদের কোনো আয় নেই। কিন্তু খরচ ঠিকই আছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছেন না। দুজন আয়া পিয়ন আছে। তারাও রয়েছে মানবেতর অবস্থায়।

তিনি বলেন, কিন্ডার গার্টেন দেশের শিক্ষা প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বড় ধরণের একটা সাপোর্টও দিচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে। কিন্ডার গার্টেনের কারণে  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর উপর চাপ কম  পড়ছে। একারণে কিন্ডার গার্টেনের এই দুরাবস্থা লাঘবে সরকারের এগিয়ে আসা উচিৎ। এদিকে নজর দেয়া দরকার।

এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রীমা ও সুমী জানান, প্রতিষ্ঠান চলে ছাত্রÑছাত্রীদের বেতনে। কিন্তু করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ। গত চার মাস বেতন না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে আছেন। টিউশনি করতেন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে।

রাজবাড়ী শহরের নুরপুর এলাকায় অবস্থিত গোল্ডেন লাইফ কিন্ডার গার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান। তিনি জেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনেরও সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আমরা ভয়ানক খারাপ অবস্থায় আছি। প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা খরচ। আয় নেই এক টাকাও। শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছিনা। অনেক কায়দা কৌশল করে কয়েকজনকে এক মাসের বেতন দিতে পেরেছি। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসককে একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য ১০ কেজি করে চাল দিয়েছেন। ১০ কেজি চাল নিয়ে কী হবে?

রাজবাড়ী কিন্ডার গার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নুরুল হক আলম বলেন, মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেল। ওই সময়ের মধ্যে কিন্ডারগার্টেনগুলোতে বেতন খুব একটা কালেকশন হয়না। সাধারণত এপ্রিল মাস থেকে কালেকশন পুরোদমে শুরু  হয়। জেলার সব কিন্ডার গার্টেনগুলোর একই অবস্থা। একারণে খুবই খারাপ অবস্থায় আছে কিন্ডার গার্টেনের সাথে জড়িত পরিচালক ও শিক্ষকরা। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো  সাহায্য কেউ পেয়েছে বলে তিনি শোনেননি।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্ডার গার্টেন কর্তৃপক্ষ তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে বেতন আদায় করে চলতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নন এমপিও স্কুলের শিক্ষকদের জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ এসেছিল। সেটা বিতরণ করা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে নিদারুন কষ্টে কিন্ডার গার্টেন পরিচালক শিক্ষক শিক্ষিকরা

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ করোনা সংক্রমণে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দুঃসহ সময় অতিক্রম করছেন রাজবাড়ীর কিন্ডার গার্টেন পরিচালক ও শিক্ষক শিক্ষিকারা। কোনো আয় না থাকলেও প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিচালকদের ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষক শিক্ষিকরা।

জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলায়  কিন্ডার গার্টেন রয়েছে ১৭০টি। যার বেশির ভাগই ঘর বা ফ্ল্যাট ভাড়া  নিয়ে  চালানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। রয়েছেন আয়া ও  পিয়নও। যাদের  অনেকের পরিবার কিন্ডার থেকে প্রাপ্ত বেতনের উপর নির্ভরশীল। সরকারি কোনো প্রণোদনা না থাকায় ছাত্রÑছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন নিয়ে কিন্ডারগার্টেনগুলোর ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় কিন্ডার গার্টেন বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন নিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের পথ। কিন্তু তাদের বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

রাজবাড়ীর বেড়াডাঙ্গায় অবস্থিত শিশু রাজ্য কিন্ডার গার্টেন। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংখ্যা ১০ জন। যারা দীর্ঘ চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। শিশু রাজ্যের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ জানান, শিক্ষকদের বেতন ছাড়াই প্রতি মাসে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য খরচ ৪০ হাজার টাকা। কিন্ডার গার্টেন বন্ধ থাকায় তাদের কোনো আয় নেই। কিন্তু খরচ ঠিকই আছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছেন না। দুজন আয়া পিয়ন আছে। তারাও রয়েছে মানবেতর অবস্থায়।

তিনি বলেন, কিন্ডার গার্টেন দেশের শিক্ষা প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বড় ধরণের একটা সাপোর্টও দিচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে। কিন্ডার গার্টেনের কারণে  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর উপর চাপ কম  পড়ছে। একারণে কিন্ডার গার্টেনের এই দুরাবস্থা লাঘবে সরকারের এগিয়ে আসা উচিৎ। এদিকে নজর দেয়া দরকার।

এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রীমা ও সুমী জানান, প্রতিষ্ঠান চলে ছাত্রÑছাত্রীদের বেতনে। কিন্তু করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ। গত চার মাস বেতন না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে আছেন। টিউশনি করতেন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে।

রাজবাড়ী শহরের নুরপুর এলাকায় অবস্থিত গোল্ডেন লাইফ কিন্ডার গার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান। তিনি জেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনেরও সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আমরা ভয়ানক খারাপ অবস্থায় আছি। প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা খরচ। আয় নেই এক টাকাও। শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছিনা। অনেক কায়দা কৌশল করে কয়েকজনকে এক মাসের বেতন দিতে পেরেছি। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসককে একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য ১০ কেজি করে চাল দিয়েছেন। ১০ কেজি চাল নিয়ে কী হবে?

রাজবাড়ী কিন্ডার গার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নুরুল হক আলম বলেন, মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেল। ওই সময়ের মধ্যে কিন্ডারগার্টেনগুলোতে বেতন খুব একটা কালেকশন হয়না। সাধারণত এপ্রিল মাস থেকে কালেকশন পুরোদমে শুরু  হয়। জেলার সব কিন্ডার গার্টেনগুলোর একই অবস্থা। একারণে খুবই খারাপ অবস্থায় আছে কিন্ডার গার্টেনের সাথে জড়িত পরিচালক ও শিক্ষকরা। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো  সাহায্য কেউ পেয়েছে বলে তিনি শোনেননি।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্ডার গার্টেন কর্তৃপক্ষ তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে বেতন আদায় করে চলতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নন এমপিও স্কুলের শিক্ষকদের জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ এসেছিল। সেটা বিতরণ করা হয়েছে।