Dhaka 3:40 pm, Wednesday, 8 February 2023

কালুখালীর সাওরাইল ইউনিয়নঃ ত্রাণের চালের বিনিময়ে কমিশন নেয়ার অভিযোগ

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 12:17:32 pm, Friday, 3 April 2020
  • / 1462 জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর শ্রমিক শ্রেণির মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ত্রাণের চালের বিনিময়ে কমিশন নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, সাওরাইল ইউনিয়নের বাহেরমোড় গ্রামের সিরু, মনোয়ারা, হাসেম, জলিল, হোসেন, হান্নানসহ অনেকের কাছ থেকে একশ থেকে দুশ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে চাল দেয়ার কথা বলে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে ভুক্তভোগীরা সকলেই বলেছে, হারুন নামে এক ব্যক্তি টাকা নিয়েছে। হারুন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম আলী জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন। যা জনপ্রতি ১০ কেজি করে একশ জনের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে তিনি আরও পঞ্চাশ জনকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছেন। টাকা নেয়া প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের সেক্রেটারী ছেলেপেলেদের বলেছে তালিকা করতে। ওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে  বলে শুনেছি। যেহেতু এটা উপর পর্যন্ত গেছে। এজন্য থানায় একটি জিডি করেছি।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওটি দেখার পর হারুনকে ডেকে এনে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সে তা অস্বীকার করে। পাশাপাশি সে বিপরীত একটি ভিডিও দেখায়। যেখানে ভুক্তভোগীরা বলছে; হারুন টাকা নেয়নি। পরে হারুন মুচলেকা দিয়েছে যে, সে এমন কিছু করেনি। সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম আলীকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। পাশাপাশি কালুখালী থানার পুলিশ এটি তদন্ত করছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কালুখালী উপজেলায় প্রথম ধাপে দুই মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় ধাপে ছয় মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যেগুলো করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় বেকার হয়ে পড়া চা দোকানী, সেলুন কর্মী, চটপটি বিক্রেতা, ঝালমুড়ি বিক্রেতা, ভ্যানচালক, দিনমজুরদের তালিকা করে বিতরণ করা হবে। আর যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে বলা হচ্ছে তারা এ তালিকায় নেই।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত চলছে। এছাড়া এলাকায় মাইকিং করতে বলা হয়েছে যে, ত্রাণের চাল নিতে কোনো টাকা দিতে হবেনা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কালুখালীর সাওরাইল ইউনিয়নঃ ত্রাণের চালের বিনিময়ে কমিশন নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : 12:17:32 pm, Friday, 3 April 2020

জনতার আদালত অনলাইন ॥ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর শ্রমিক শ্রেণির মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ত্রাণের চালের বিনিময়ে কমিশন নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, সাওরাইল ইউনিয়নের বাহেরমোড় গ্রামের সিরু, মনোয়ারা, হাসেম, জলিল, হোসেন, হান্নানসহ অনেকের কাছ থেকে একশ থেকে দুশ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে চাল দেয়ার কথা বলে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে ভুক্তভোগীরা সকলেই বলেছে, হারুন নামে এক ব্যক্তি টাকা নিয়েছে। হারুন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম আলী জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন। যা জনপ্রতি ১০ কেজি করে একশ জনের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে তিনি আরও পঞ্চাশ জনকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছেন। টাকা নেয়া প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের সেক্রেটারী ছেলেপেলেদের বলেছে তালিকা করতে। ওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে  বলে শুনেছি। যেহেতু এটা উপর পর্যন্ত গেছে। এজন্য থানায় একটি জিডি করেছি।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওটি দেখার পর হারুনকে ডেকে এনে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সে তা অস্বীকার করে। পাশাপাশি সে বিপরীত একটি ভিডিও দেখায়। যেখানে ভুক্তভোগীরা বলছে; হারুন টাকা নেয়নি। পরে হারুন মুচলেকা দিয়েছে যে, সে এমন কিছু করেনি। সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম আলীকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। পাশাপাশি কালুখালী থানার পুলিশ এটি তদন্ত করছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কালুখালী উপজেলায় প্রথম ধাপে দুই মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় ধাপে ছয় মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যেগুলো করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় বেকার হয়ে পড়া চা দোকানী, সেলুন কর্মী, চটপটি বিক্রেতা, ঝালমুড়ি বিক্রেতা, ভ্যানচালক, দিনমজুরদের তালিকা করে বিতরণ করা হবে। আর যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে বলা হচ্ছে তারা এ তালিকায় নেই।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত চলছে। এছাড়া এলাকায় মাইকিং করতে বলা হয়েছে যে, ত্রাণের চাল নিতে কোনো টাকা দিতে হবেনা।