মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে ঘুষ, ছেলে তৈরি করল ‘ঘুষ ডট সাইট’
- প্রকাশের সময় : ১০:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / 15
মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষের দাবির মুখে পড়ার অভিযোগ। নিজের পাসপোর্ট করতে গিয়েও একই অভিজ্ঞতা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও ঘুষের তথ্য প্রকাশ্যে আনার উদ্যোগ থেকে ‘ঘুষ ডট সাইট’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শাহেদ শরীফ আহমেদ।
ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমিনা খাতুন ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর মারা যান। পরিবারের দাবি, ১৩ বছরের চাকরিজীবনের প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন দপ্তরে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এ ছাড়া কল্যাণ তহবিল ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা পেতে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পরিবারের।
আমিনার ছেলে শাহেদ বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট শেখার আগ্রহ থেকে কোডিংয়ের সঙ্গে পরিচয় তার। নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা ও পাসপোর্ট তৈরির সময় ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ থেকেই ‘ঘুষ ডট সাইট’ তৈরির উদ্যোগ নেয় সে।
একটি ভারতীয় ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রাথমিকভাবে মাত্র দুই ঘণ্টায় ওয়েবসাইটটির কাঠামো তৈরি করে শাহেদ। পরে বন্ধু ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহযোগিতায় ডোমেইন কেনা হয়। গত ২১ আগস্ট ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়।
শাহেদের দাবি, ওয়েবসাইট চালুর নয় দিনের মধ্যে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সেখানে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগগুলোতে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে চার সদস্যের একটি পর্যালোচনা দল অভিযোগগুলো যাচাই করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে।
ওয়েবসাইটটিতে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে। শাহেদ জানায়, আইনি ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি এড়াতে ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় এবং নির্দিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আইনি সহায়তা বা সরকারি সমর্থন পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘স্ত্রীর মৃত্যুর পর সরকারি প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষের মুখে পড়তে হয়েছে। বাধ্য হয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলেছি। কিন্তু বাকি টাকা পেতেও ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। আমি জেদ ধরেছি, ঘুষ না দিয়েই প্রাপ্য টাকা তুলব। ছেলের এই উদ্যোগে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’
তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মো. মজিবুর রহমান। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন বলেন, এ বিষয়ে কেউ তাকে জানাননি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তরুণদের এ উদ্যোগ পুলিশের নজরে এসেছে। ঘুষ বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিআইবি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সহসভাপতি শরীফুজ্জামান টিটু বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতার উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারে।























