Dhaka ১২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে বাঁচতে পারে অন্তত ৫টি অণুজীব! ‘শুধু ভালো ফল নয়, ভালো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে’ নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ ৪০৩ প্রতারণা মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর, কারাগারে বিদিশা দক্ষিণ চীন সাগরে ছোট দ্বীপে সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলছে বেইজিং বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা সরকারের লক্ষ্য কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা: কৃষিমন্ত্রী ঝিনাইদহে পৃথক দুর্ঘটনায় এক দিনে চারজনের মৃত্যু আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেপালে নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প: ববি হাজ্জাজ

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে বাঁচতে পারে অন্তত ৫টি অণুজীব!

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 11

চাঁদে কি কোনও জীব বেঁচে থাকতে পারে? এই নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণা করছেন। মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার একদল বিজ্ঞানীর দাবি, কয়েক ধরনের ব্যাকটিরিয়া এবং ছত্রাককে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নিয়ে গেলে তারা সেখানে অন্তত একদিন বাঁচতে পারবে। ঠিক কোনখানে নিয়ে গেলে অণুজীবেরা মোটামুটি একদিন বাঁচতে পারবে, তা-ও স্পষ্ট করেছেন বিজ্ঞানীরা। তা বলে পৃথিবীতে যেমন জীবরা অনায়াসে বেঁচে থাকে, চাঁদে তা কখনওই সম্ভব নয়।

চাঁদের যা পরিবেশ, তাতে সেখানে জীবের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। পৃথিবীর এই উপগ্রহে কোনও বায়ুমণ্ডল নেই। তার ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সেখানকার পৃষ্ঠে সরাসরি গিয়ে পড়ে। চাঁদের বায়ুমণ্ডল না থাকায় খুব দ্রুত তাপমাত্রারও পরিবর্তন হয়। তার জেরেই সেখানে কোনও অণুজীব বাঁচতে পারে না, এমনটাই দাবি করা হয়েছিল ২০১৯ সালের একটি গবেষণায়।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, চাঁদের সর্বত্র অবস্থা এক নয়। মেরুতে সূর্যরশ্মির প্রখরতা অনেক কম। আবার চাঁদে যে গহ্বরগুলি রয়েছে, তাতে ঠিক ভাবে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। চাঁদে কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে কখনওই সূর্যের আলো পৌঁছায় না। তবে বিক্ষিপ্ত ভাবে সেখানেও কখনও কখনও সূর্যরশ্মির একটা অংশ পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ সব জায়গাতেই অণুজীবেরা কিছুটা সময় বাঁচতে পারে। পৃথিবীর উপগ্রহের কোন জায়গায় জীব বাঁচতে পারে, তা নিয়ে নাসার বিজ্ঞানীদের করা গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ।

মোট পাঁচটি অণুজীব-তিন ধরনের ব্যাকটিরিয়া এবং দু’ধরনের ছত্রাক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাতে দেখা গিয়েছে, সেগুলো চাঁদের ওই অন্ধকার অংশে একদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে সক্ষম। কোনওটি আবার এক সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচতে পারে। বেসিলাস সাবটিলিস, ডেইনোকক্কাস রেডিয়োডুরানস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, অ্যাসপারগিলাস, ফুসারিয়াম-এই পাঁচটি অণুজীব চাঁদের বুকে অন্তত একদিন বাঁচতে পারবে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।

আগের গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, এই পাঁচ অণুজীব চাঁদে বাঁচতে পারে না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সেগুলো চাঁদের মেরু অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারবে। তবে নড়াচড়া করতে পারবে না। বংশবৃদ্ধি করতেও পারবে না। নাসার বিজ্ঞানী প্রবাল সাক্সেনা জানান, চাঁদে ওই অণুজীবদের আশ্রয়ের জন্য খুব একটা কিছু ব্যবস্থা করারও প্রয়োজন নেই। একটা পায়ের ছাপ বা রোভারের চাকার দাগেও বসবাস করতে পারে অণুজীব।

নাসার আর্টেমিস-৩ অভিযানে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নেমে গবেষণা করবে মানুষ। নাসার গবেষক হিথার গ্রাহাম জানান, নতুন এই গবেষণার ফলে চন্দ্রাভিযানকারীদের অনেকটাই সুবিধা হবে। কী ধরনের জিনিস চাঁদে নিয়ে যাওয়া উচিত, কী নয়, তা নিয়ে একটা ধারণা মিলবে। ওই অভিযানে চাঁদে অণুজীব পাঠানো যেতে পারে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীদের একাংশ।

তাঁরা মনে করেন, প্রাচীনকালে কোনও মহাজাগতিক সংঘর্ষের (যেমন উল্কাপাত) ফলে পৃথিবী থেকে অণুজীব বহনকারী পাথর ছিটকে গিয়ে চাঁদের বুকে পড়তে পারে। সেগুলো যদি চাঁদের মেরুতে গিয়ে পড়ে, তা হলে তা হয়তো এখনও সংরক্ষিত রয়েছে। যেমন ফ্রিজারে থাকে। আর্টেমিস-৩ অভিযানে সেগুলোর খোঁজ করবেন বিজ্ঞানীরা। আরও কোনও ধরনের অণুজীব চাঁদের বুকে বেঁচে থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে হয়তো ভবিষ্যতে আরও গবেষণা হবে। এমনটাই আশা বিজ্ঞানী সাক্সেনার।

সূত্র: সায়েন্স ডেইলি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে বাঁচতে পারে অন্তত ৫টি অণুজীব!

প্রকাশের সময় : ১০:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদে কি কোনও জীব বেঁচে থাকতে পারে? এই নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণা করছেন। মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার একদল বিজ্ঞানীর দাবি, কয়েক ধরনের ব্যাকটিরিয়া এবং ছত্রাককে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নিয়ে গেলে তারা সেখানে অন্তত একদিন বাঁচতে পারবে। ঠিক কোনখানে নিয়ে গেলে অণুজীবেরা মোটামুটি একদিন বাঁচতে পারবে, তা-ও স্পষ্ট করেছেন বিজ্ঞানীরা। তা বলে পৃথিবীতে যেমন জীবরা অনায়াসে বেঁচে থাকে, চাঁদে তা কখনওই সম্ভব নয়।

চাঁদের যা পরিবেশ, তাতে সেখানে জীবের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। পৃথিবীর এই উপগ্রহে কোনও বায়ুমণ্ডল নেই। তার ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সেখানকার পৃষ্ঠে সরাসরি গিয়ে পড়ে। চাঁদের বায়ুমণ্ডল না থাকায় খুব দ্রুত তাপমাত্রারও পরিবর্তন হয়। তার জেরেই সেখানে কোনও অণুজীব বাঁচতে পারে না, এমনটাই দাবি করা হয়েছিল ২০১৯ সালের একটি গবেষণায়।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, চাঁদের সর্বত্র অবস্থা এক নয়। মেরুতে সূর্যরশ্মির প্রখরতা অনেক কম। আবার চাঁদে যে গহ্বরগুলি রয়েছে, তাতে ঠিক ভাবে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। চাঁদে কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে কখনওই সূর্যের আলো পৌঁছায় না। তবে বিক্ষিপ্ত ভাবে সেখানেও কখনও কখনও সূর্যরশ্মির একটা অংশ পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ সব জায়গাতেই অণুজীবেরা কিছুটা সময় বাঁচতে পারে। পৃথিবীর উপগ্রহের কোন জায়গায় জীব বাঁচতে পারে, তা নিয়ে নাসার বিজ্ঞানীদের করা গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ।

মোট পাঁচটি অণুজীব-তিন ধরনের ব্যাকটিরিয়া এবং দু’ধরনের ছত্রাক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাতে দেখা গিয়েছে, সেগুলো চাঁদের ওই অন্ধকার অংশে একদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে সক্ষম। কোনওটি আবার এক সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচতে পারে। বেসিলাস সাবটিলিস, ডেইনোকক্কাস রেডিয়োডুরানস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, অ্যাসপারগিলাস, ফুসারিয়াম-এই পাঁচটি অণুজীব চাঁদের বুকে অন্তত একদিন বাঁচতে পারবে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।

আগের গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, এই পাঁচ অণুজীব চাঁদে বাঁচতে পারে না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সেগুলো চাঁদের মেরু অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারবে। তবে নড়াচড়া করতে পারবে না। বংশবৃদ্ধি করতেও পারবে না। নাসার বিজ্ঞানী প্রবাল সাক্সেনা জানান, চাঁদে ওই অণুজীবদের আশ্রয়ের জন্য খুব একটা কিছু ব্যবস্থা করারও প্রয়োজন নেই। একটা পায়ের ছাপ বা রোভারের চাকার দাগেও বসবাস করতে পারে অণুজীব।

নাসার আর্টেমিস-৩ অভিযানে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নেমে গবেষণা করবে মানুষ। নাসার গবেষক হিথার গ্রাহাম জানান, নতুন এই গবেষণার ফলে চন্দ্রাভিযানকারীদের অনেকটাই সুবিধা হবে। কী ধরনের জিনিস চাঁদে নিয়ে যাওয়া উচিত, কী নয়, তা নিয়ে একটা ধারণা মিলবে। ওই অভিযানে চাঁদে অণুজীব পাঠানো যেতে পারে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীদের একাংশ।

তাঁরা মনে করেন, প্রাচীনকালে কোনও মহাজাগতিক সংঘর্ষের (যেমন উল্কাপাত) ফলে পৃথিবী থেকে অণুজীব বহনকারী পাথর ছিটকে গিয়ে চাঁদের বুকে পড়তে পারে। সেগুলো যদি চাঁদের মেরুতে গিয়ে পড়ে, তা হলে তা হয়তো এখনও সংরক্ষিত রয়েছে। যেমন ফ্রিজারে থাকে। আর্টেমিস-৩ অভিযানে সেগুলোর খোঁজ করবেন বিজ্ঞানীরা। আরও কোনও ধরনের অণুজীব চাঁদের বুকে বেঁচে থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে হয়তো ভবিষ্যতে আরও গবেষণা হবে। এমনটাই আশা বিজ্ঞানী সাক্সেনার।

সূত্র: সায়েন্স ডেইলি।