Dhaka ০৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়লার ভাগাড় থেকে প্রাণ ফিরছে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 7

রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের হারানো নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দূরানী খাল ও সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন।

শুক্রবার সেকশন ব্রিজসংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে এর আগের রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ উপস্থিত অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বেড়ে যায়।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর পরবর্তী সময়ে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। বিভিন্ন অংশে দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।

বর্তমানে চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দিতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চ্যানেলের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। জনসাধারণের চলাচল ও অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা অপরিহার্য। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল ভোগ করবেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চ্যানেল পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এটি পুনরায় দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ উদ্যোগে সহযোগিতা করে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার, সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটি তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট থেকেও স্বস্তি মিলবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সূত্র : বাসস

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ময়লার ভাগাড় থেকে প্রাণ ফিরছে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে

প্রকাশের সময় : ০২:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের হারানো নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দূরানী খাল ও সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন।

শুক্রবার সেকশন ব্রিজসংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে এর আগের রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ উপস্থিত অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বেড়ে যায়।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর পরবর্তী সময়ে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। বিভিন্ন অংশে দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।

বর্তমানে চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দিতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চ্যানেলের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। জনসাধারণের চলাচল ও অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা অপরিহার্য। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল ভোগ করবেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চ্যানেল পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এটি পুনরায় দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ উদ্যোগে সহযোগিতা করে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার, সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটি তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট থেকেও স্বস্তি মিলবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সূত্র : বাসস