নায়করাজ রাজ্জাকের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- প্রকাশের সময় : ০২:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / 5
ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই মহাতারকা। তার মৃত্যুর নয় বছর পরও অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের কারণে দর্শক-ভক্তদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন তিনি।
কলকাতায় জন্ম নেওয়া রাজ্জাকের অভিনয়জীবনের হাতেখড়ি হয় স্কুলজীবনেই। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে প্রবেশ করেন তিনি। পরবর্তীতে অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই চলচ্চিত্রের পথে যাত্রা শুরু করেন।
১৯৬৪ সালে নতুন জীবনের প্রত্যাশায় সপরিবারে বাংলাদেশে চলে আসেন রাজ্জাক। ঢাকায় এসে শূন্য থেকে শুরু করেন তার সংগ্রামী পথচলা। ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের পরিচালক আবদুল জব্বার খানের সহযোগিতায় ঢাকাই চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পান তিনি।
১৯৬৬ সালে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হয় তার। একই বছর জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সিনেমায় লখিন্দরের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন রাজ্জাক।
স্বাধীনতার পর রাজ্জাক অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘মানুষের মন’ ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়। এর মধ্য দিয়েই ঢাকাই চলচ্চিত্রে শুরু হয় ‘রাজ্জাক যুগ’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’, পাশাপাশি ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’, ‘অবুঝ মন’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে তিনি পরিণত হন দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান আইকনে।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নায়করাজ রাজ্জাক ‘বেহুলা’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘এতটুকু আশা’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘আলোর মিছিল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ও ‘ও আমার দেশের মাটি’সহ প্রায় ৫০০টি বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনাতেও সাফল্য দেখিয়েছেন রাজ্জাক। তিনি ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। তার মালিকানাধীন ‘রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন’ থেকেও নির্মিত হয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে মোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন নায়করাজ। চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কারে’ ভূষিত করে।
নায়করাজের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে। তার ছোট ছেলে খালিদ হোসেন সম্রাট জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে কোরআন খতম, বাদ ফজর কবর জিয়ারত এবং বাদ আসর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দোয়ার আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নায়করাজ রাজ্জাক শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি একটি যুগের নাম। তার অভিনয় ও দীর্ঘ কর্মজীবন ঢালিউডকে সমৃদ্ধ করেছে। পর্দায় তার উপস্থিতি আজ নেই, কিন্তু তার অভিনীত অসংখ্য সিনেমা ও চলচ্চিত্রে অবদান তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।



















