Dhaka ০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মান্দায় হানিট্রাপের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, তিনজন গ্রেপ্তার নওগাঁয় ডিবির অভিযানে দুই অনলাইন জুয়াড়ি আটক, মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ তিনজন গ্রেপ্তার রাবির প্রদর্শনীর চিত্রকর্মে একাত্তরের চেয়ে চব্বিশকে বড় দেখানোর অভিযোগ ১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে যেসব অঞ্চল থেকে আজ বিশ্ব অলস দিবস: ব্যস্ততার মাঝেও একটু বিশ্রাম হঠাৎ ঢাকায় ‘র’ প্রধান আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : ভারতীয় হাইকমিশনার ‘৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার হলে অলি আহমদই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন’ ইয়াবাসহ আটক আসামির পরিবারের কাছে ঘুস দাবির অডিও ফাঁস, এসআই ক্লোজড

আলমারিতে রাখা ২ লাখ টাকা ইঁদুর-উইপোকার পেটে, নিঃস্ব কৃষক

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 26

স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং সংসারের প্রয়োজন মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে টাকা জমিয়েছিলেন কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। ব্যাংকে না রেখে কাঠের আলমারিতে যত্ন করে রাখা সেই সঞ্চয়ই শেষ পর্যন্ত ইঁদুর ও উইপোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এই কৃষক।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের নিজ বাড়িতে আলমারি খুলে টাকাগুলোর এমন অবস্থা দেখতে পান তোফাজ্জল হোসেন ভাটিয়া। ছেঁড়া-ফাঁড়া হয়ে পড়ে থাকা নোট দেখে ভেঙে পড়েন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ছোবেদ আলী জানান, ছেলে-মেয়ের বিয়ে ও সংসারের জরুরি প্রয়োজনে তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমাচ্ছিলেন। ব্যাংকে না রেখে তিনি নগদ টাকা আলমারিতে সংরক্ষণ করেছিলেন। শুক্রবার আলমারি খুলে দেখতে পান, ইঁদুর ও উইপোকায় টাকাগুলো কেটে কুটি কুটি করে ফেলেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার বিকেলে কৃষকের বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। আলমারি থেকে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার ছেঁড়া-ফাঁড়া নোট বের করে আনা হয়। অধিকাংশ নোটই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সারাজীবন রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করেছি। একটা টাকাও অযথা খরচ করিনি। মেয়ের বিয়ে দেব—এই আশায় টাকা জমিয়েছিলাম। এখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, গ্রামের অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখার বিষয়ে অনাগ্রহী হওয়ায় বাড়িতেই নগদ অর্থ সংরক্ষণ করেন। বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় আলমারি ও ট্রাঙ্কে ইঁদুর-উইপোকার উপদ্রবও বাড়ে। ফলে অসতর্কতার কারণে অনেক সময় নগদ টাকা নষ্ট হয়ে যায়।

ইউপি সদস্য ছোবেদ আলী বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে আছি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা যায় কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা করব।’

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অল্প পরিমাণ অর্থ হলেও সঞ্চয়ী হিসাব খুলে ব্যাংকে রাখা নিরাপদ। বাড়িতে নগদ টাকা রাখার প্রয়োজন হলে তা শুকনো ও সিল করা বাক্সে সংরক্ষণ এবং নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

দীর্ঘদিনের কষ্টের সঞ্চয় এক মুহূর্তে হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। মেয়ের বিয়ে ও সংসারের প্রয়োজন মেটাতে হারানো এই অর্থ কীভাবে পূরণ করবেন—এটাই এখন তার বড় দুশ্চিন্তা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আলমারিতে রাখা ২ লাখ টাকা ইঁদুর-উইপোকার পেটে, নিঃস্ব কৃষক

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং সংসারের প্রয়োজন মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে টাকা জমিয়েছিলেন কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। ব্যাংকে না রেখে কাঠের আলমারিতে যত্ন করে রাখা সেই সঞ্চয়ই শেষ পর্যন্ত ইঁদুর ও উইপোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এই কৃষক।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের নিজ বাড়িতে আলমারি খুলে টাকাগুলোর এমন অবস্থা দেখতে পান তোফাজ্জল হোসেন ভাটিয়া। ছেঁড়া-ফাঁড়া হয়ে পড়ে থাকা নোট দেখে ভেঙে পড়েন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ছোবেদ আলী জানান, ছেলে-মেয়ের বিয়ে ও সংসারের জরুরি প্রয়োজনে তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমাচ্ছিলেন। ব্যাংকে না রেখে তিনি নগদ টাকা আলমারিতে সংরক্ষণ করেছিলেন। শুক্রবার আলমারি খুলে দেখতে পান, ইঁদুর ও উইপোকায় টাকাগুলো কেটে কুটি কুটি করে ফেলেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার বিকেলে কৃষকের বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। আলমারি থেকে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার ছেঁড়া-ফাঁড়া নোট বের করে আনা হয়। অধিকাংশ নোটই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সারাজীবন রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করেছি। একটা টাকাও অযথা খরচ করিনি। মেয়ের বিয়ে দেব—এই আশায় টাকা জমিয়েছিলাম। এখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, গ্রামের অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখার বিষয়ে অনাগ্রহী হওয়ায় বাড়িতেই নগদ অর্থ সংরক্ষণ করেন। বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় আলমারি ও ট্রাঙ্কে ইঁদুর-উইপোকার উপদ্রবও বাড়ে। ফলে অসতর্কতার কারণে অনেক সময় নগদ টাকা নষ্ট হয়ে যায়।

ইউপি সদস্য ছোবেদ আলী বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে আছি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা যায় কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা করব।’

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অল্প পরিমাণ অর্থ হলেও সঞ্চয়ী হিসাব খুলে ব্যাংকে রাখা নিরাপদ। বাড়িতে নগদ টাকা রাখার প্রয়োজন হলে তা শুকনো ও সিল করা বাক্সে সংরক্ষণ এবং নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

দীর্ঘদিনের কষ্টের সঞ্চয় এক মুহূর্তে হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। মেয়ের বিয়ে ও সংসারের প্রয়োজন মেটাতে হারানো এই অর্থ কীভাবে পূরণ করবেন—এটাই এখন তার বড় দুশ্চিন্তা।