Dhaka ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা, নিন্দা ও ক্ষোভ ‘জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার’ ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু বাংলাদেশিদের শ্রম ভিসা সাময়িক বন্ধ করল লাওস ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটিই যেন না থাকে: খাদ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন চার বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় যানবাহনের কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, গেজেট প্রকাশ চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা, নিন্দা ও ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৫:১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বর অপসারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার ভাস্কর্যে জুতোর মালা পরানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে ভাস্কর্যটির গলায় জুতোর মালা ঝোলানো অবস্থায় দেখা যায়। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন।

ঘটনাটি জানার পর সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামালুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে জুতোর মালাটি অপসারণ করেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন এবং ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

কামালুজ্জামান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ভাস্কর্যে জুতোর মালা পরানো হয়েছে। পরে সেটি অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করছি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ তথা সারা দেশের গর্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবন দিয়ে তিনি বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস রচনা করেছেন। এর আগে তাঁর নামে নির্মিত স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। আবার আজকের ঘটনাটিও অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যারা এ ধরনের কাজ করেছে, তদন্ত করে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে একটি গোষ্ঠী ভাস্কর্যটিতে বারবার হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। সর্বশেষ জুতোর মালা পরানোর ঘটনাও তারই ধারাবাহিকতা বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান হাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা দিয়ে অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগে ভাস্কর্য ও চত্বরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিকেলে প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানান আবু তোয়াব অপু।

জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রাতে কে বা কারা এ ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তা খুঁজে বের করা হবে। এ বিষয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।’

এর আগে গত ১৭ জুলাই ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বর অপসারণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা চত্বরটি অপসারণের কাজ শুরু করেছিল। তখন ভাস্কর্য নির্মাণ-সংক্রান্ত প্রকল্পের মূল ফাইল খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।

সর্বশেষ ভাস্কর্যে জুতোর মালা পরানোর ঘটনায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কে বা কারা রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে দেখছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা, নিন্দা ও ক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০৫:১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বর অপসারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার ভাস্কর্যে জুতোর মালা পরানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে ভাস্কর্যটির গলায় জুতোর মালা ঝোলানো অবস্থায় দেখা যায়। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন।

ঘটনাটি জানার পর সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামালুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে জুতোর মালাটি অপসারণ করেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন এবং ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

কামালুজ্জামান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ভাস্কর্যে জুতোর মালা পরানো হয়েছে। পরে সেটি অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করছি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ তথা সারা দেশের গর্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবন দিয়ে তিনি বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস রচনা করেছেন। এর আগে তাঁর নামে নির্মিত স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। আবার আজকের ঘটনাটিও অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যারা এ ধরনের কাজ করেছে, তদন্ত করে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে একটি গোষ্ঠী ভাস্কর্যটিতে বারবার হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। সর্বশেষ জুতোর মালা পরানোর ঘটনাও তারই ধারাবাহিকতা বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান হাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা দিয়ে অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগে ভাস্কর্য ও চত্বরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিকেলে প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানান আবু তোয়াব অপু।

জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রাতে কে বা কারা এ ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তা খুঁজে বের করা হবে। এ বিষয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।’

এর আগে গত ১৭ জুলাই ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বর অপসারণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা চত্বরটি অপসারণের কাজ শুরু করেছিল। তখন ভাস্কর্য নির্মাণ-সংক্রান্ত প্রকল্পের মূল ফাইল খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।

সর্বশেষ ভাস্কর্যে জুতোর মালা পরানোর ঘটনায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কে বা কারা রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে দেখছে।