সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৮০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
- প্রকাশের সময় : ১০:০৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারফলসি দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল, নথিপত্র বিকৃতি এবং ব্যাকডেটে আট শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৮০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার মূল জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খলিলুর রহমান ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর মারা যান। অথচ তার মৃত্যুর পরও বিভিন্ন নথিতে তার স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সালে মাদ্রাসায় যোগ দেওয়ার পর ইয়ারুল ইসলাম নিজেকে ২০০৪ সাল থেকে কর্মরত দেখান এবং এ সংক্রান্ত নথিতে ২০১১ সালে মারা যাওয়া সভাপতি খলিলুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে পারফলসি দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল সুপারের দায়িত্ব পালন করেন। মাদ্রাসাটি তখন এমপিওভুক্ত না থাকায় তিনি চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে হরিণাকুণ্ডু শহরের সিদ্দীকিয়া আলিম মাদ্রাসায় কর্মরত সহকারী শিক্ষক ইয়ারুল ইসলাম পারফলসি মাদ্রাসায় যুক্ত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বরের একটি ভুয়া যোগদানপত্র তৈরি করে সেখানে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানাকে ‘ভারপ্রাপ্ত সুপার’ হিসেবে দেখানো হয়। তবে ইয়াসমিন সুলতানা কখনো ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পালন করেননি এবং ওই পদে তার কোনো অফিসিয়াল সিল বা স্বাক্ষরও ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ২০২২ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন ফর্মে শিক্ষকদের স্বাক্ষর নেওয়ার সুযোগে ওই যোগদানপত্র নথিভুক্ত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর ইয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাকডেটে অন্তত আটজন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব নিয়োগের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমেও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মিজানুর রহমান নামে এক সচেতন নাগরিকের পক্ষে দুদকের ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল, সরকারি নথি বিকৃতি এবং ব্যাকডেটে অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কথিত সুপার ইয়ারুল ইসলামসহ এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘যা হওয়ার হয়েছে। এখন যাতে মাদ্রাসাটির ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে কী করা যায় বলুন।’ তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কথা না বলে পরে দেখা করে কথা বলবেন বলে জানান।






















