কোটালীপাড়া সড়কে বর্জ্য, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা
- প্রকাশের সময় : ১১:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 37
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌরসভায় বর্জ্য অপসারণের নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনায় বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে কোটালীপাড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১০ দশমিক ৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ৯৪ জন মানুষের বসবাস। ২০০৭ সালে পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং ২০১৬ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এখনো কোনো বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।
নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাড়কোনা পৌরবাস টার্মিনালের পাশে কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। খোলা জায়গা ও সড়কের পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এতে যাত্রী-চালক, সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের পাশে ময়লা জমে থাকায় পথচারীদের চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময় এসব বর্জ্যে আগুন দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় সড়ক আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
মাহিন্দ্রা ও ভ্যানচালকেরা বলেন, বিভিন্ন সময় সড়কের পাশে জমে থাকা আবর্জনায় আগুন দেওয়া হয়। তখন দুর্গন্ধের পাশাপাশি ধোঁয়ায় পুরো সড়ক আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এতে যানবাহন চালাতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয় এবং পথচারীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।
পৌরবাসীর অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিনেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত স্থান তৈরি করা হয়নি। সাবেক পৌর মেয়রদের আমলে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বর্তমানে সাধারণ মানুষকে এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত সড়কের পাশ থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণেরও দাবি জানান তারা।
বর্তমানে কোটালীপাড়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগুফতা হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন করা হবে বলেও জানান তিনি।























