Dhaka ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন মার্ভেল তারকা সিমু লিউ পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি মুনিরা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সরাতে গণভোট লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৮০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষক মধুখালীর মনিরুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা কোটালীপাড়ায় শিশু কল্যাণ বোর্ডের অর্ধবার্ষিক সভা

সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 87

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তার ঠিকানা খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গা। ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর মর্মবেদনা। অসহায় রেহানার পাশে দাঁড়িয়ে তার দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেহানা খাতুন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ঘরভাড়া দিতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারাতে হয় তাকে। এরপর সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে অর্থের অভাবে কয়েক মাস ধরে সেই কাঠামোই পড়ে আছে। টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রখর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রেহানা।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান , মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তিনি দেখেন, রেহানার মাথায় চুল নেই। কারণ জানতে চাইলে কান্নাকাটি করে রেহানা জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে তিনি নিজের চুল বিক্রি করেছেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে সে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব, দ্রুত যেন তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।

সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই কাঠামোকেই ঘর বানিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়ার অভাবে ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।

রেহানা খাতুন বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাওয়ারও কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই। সন্তানদের নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।

এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় পরিবারের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রেহানা। তার চাওয়া খুব বেশি নয় মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না, আর রাতে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন তারা।

একজন মায়ের সন্তানের জন্য ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করার ঘটনা দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতার পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা

প্রকাশের সময় : ০৪:২৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তার ঠিকানা খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গা। ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর মর্মবেদনা। অসহায় রেহানার পাশে দাঁড়িয়ে তার দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেহানা খাতুন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ঘরভাড়া দিতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারাতে হয় তাকে। এরপর সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে অর্থের অভাবে কয়েক মাস ধরে সেই কাঠামোই পড়ে আছে। টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রখর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রেহানা।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান , মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তিনি দেখেন, রেহানার মাথায় চুল নেই। কারণ জানতে চাইলে কান্নাকাটি করে রেহানা জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে তিনি নিজের চুল বিক্রি করেছেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে সে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব, দ্রুত যেন তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।

সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই কাঠামোকেই ঘর বানিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়ার অভাবে ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।

রেহানা খাতুন বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাওয়ারও কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই। সন্তানদের নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।

এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় পরিবারের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রেহানা। তার চাওয়া খুব বেশি নয় মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না, আর রাতে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন তারা।

একজন মায়ের সন্তানের জন্য ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করার ঘটনা দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতার পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে।