ছাত্রদলের হামলায় চোয়াল ভেঙেছে জবি শিক্ষার্থীর, অস্ত্রোপচারের পরও কথা বলতে পারছেন না
- প্রকাশের সময় : ১২:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 7
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নিয়ামত উল্লাহ শোয়াইব। হামলায় তার চোয়াল ভেঙে গেছে। অস্ত্রোপচারের পরও তিনি কথা বলতে পারছেন না; প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করছেন কাগজে লিখে।
জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হন শোয়াইব। পরে চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও হামলার মুখে পড়েন। এ সময় তার দাঁত ও চোয়ালে গুরুতর আঘাত লাগে।
চিকিৎসক ও সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং সাতটি দাঁত পুরোপুরি স্থানচ্যুত হয়। পরে অস্ত্রোপচার শেষে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
শোয়াইবের বড় ভাই কাজী আরিফ জানান, অস্ত্রোপচারের পর শোয়াইব তাকে বার্তায় জানিয়েছেন, তার চোয়ালের ভেতরে স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এক বছর পর আরেকটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্লেটটি অপসারণ করতে হবে। এছাড়া প্লেট থাকা অবস্থায় এমআরআই করা যাবে না।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, আগামী পাঁচ মাস গরুর মাংস এবং ছয় মাস কোনো ধরনের শক্ত খাবার, সিমের বিচি ও হাড়জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের শক্ত খাবার চিবানোও নিষেধ করা হয়েছে।
শোয়াইবের বন্ধু রাকিব উল ইসলাম জানান, রাতে তিনি হাসপাতালে গিয়ে শোয়াইবের খোঁজ নেন। তার দাবি, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিডিও ধারণের সময় শোয়াইবকে মারধর করা হয়। পরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তিনি হামলার শিকার হন। চোয়ালে আঘাতের পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
রাকিব সাংবাদিকদের বলেন, হামলায় শোয়াইবের সাতটি দাঁত পুরোপুরি স্থানচ্যুত হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর তিনি আপাতত শঙ্কামুক্ত থাকলেও এখনো কথা বলতে পারছেন না। কথা বলার চেষ্টা করলে রক্তপাত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, কথা বলতে না পারায় শোয়াইব কাগজে লিখে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানাচ্ছেন। তার একটি লেখায় ছিল, “ব্রেইন ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। নাস্তা করে নামাজ পড়ে ঘুমাতে যাই। ঠোঁটের ফোলা কমবে কখন? ব্রাশ কখন করতে পারব?”























