নওগাঁয় মাছের সাথে শত্রুতা, ৮ লাখ টাকার ক্ষতি
- প্রকাশের সময় : ০৮:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 32
নওগাঁর মান্দায় চাঁদা না দেওয়ায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মাছচাষি মো. আলম শেখ। অভিযুক্তরা হলেন—মো. ইয়াসিন আলী মাস্টার, মো. মিজানুর রহমান (৪৫), মো. আজিজুল হক (৫৫), মো. মমতাজ হোসেন (৬৫), মো. তুহিন মোল্লা (৩৫), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৪০), মো. রতন (৪০), মো. এনামুল (৩২), মো. শফিকুল রহমান (৩৫) ও মো. আল-আমিন (৩৩)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর মৌজার ২১৯ নম্বর দাগে প্রায় ৭০ শতক আয়তনের সরকারি পুকুরটি গত ১৩ এপ্রিল তানইল-মনোহরপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড লিজ নেয়। সমিতির অনুমতিক্রমে মো. আনোয়ার হোসেন ওই পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, মাছ চাষ শুরু করার পর ইয়াসিন আলী ও মিজানুর রহমানসহ অভিযুক্তরা পুকুরটি তাদের এলাকার সরকারি পুকুর দাবি করে চাষ বন্ধ করে চলে যেতে বলেন। অন্যথায় ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
গত ২৯ জুলাই বৈদ্যপুর বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা বাদীর বাবা আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জের ধরে ৪ আগস্ট রাতে অভিযুক্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন এবং এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ মারা যায় বলে দাবি করেছেন বাদী।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আজিজুল হকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপর অভিযুক্ত ইয়াসিন আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ওই পুকুর কে লিজ নিয়েছে, কারা চাষ করে বা কীভাবে মাছ মারা গেছে, এ সম্পর্কে আমার কোনো কিছুই জানা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি গ্রামেও থাকি না। পরিবারসহ মহাদেবপুর উপজেলা শহরে বসবাস করি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিকল্পিতভাবে আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ অভিযোগ করা হয়েছে।’
ইয়াসিন আলী আরও দাবি করেন, কিছুদিন আগে বৈদ্যপুর বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে জানতে পারেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে প্রচুর মাছ মারা গেছে এবং বিষয়টি সত্য বলে তিনি জানান।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘মাছ মারা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





















